
প্রার্থী অপছন্দ, আর তাই সল্টলেক BJP পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন কর্মীরা। দফতরের বাইরে বেরিয়ে এসে নজিরবিহীন ভাবে এই বিক্ষোভ সামাল দিতে দেখা গেল রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। তুমুল চিৎকার আর অপছন্দের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্লোগানিংয়ের মাঝে একবার মেজাজ গরম করতেও দেখা গেল শমীককে। তিনি বললেন, 'একটা সময় পর্যন্ত আমি টলারেট করব, তারপর আর করব না।'
বেলেঘাটার প্রার্থী পার্থ চৌধুরী, এন্টালির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের অপছন্দ হওয়ায় BJP কর্মীরা এসে জড়ো হন সল্টলেক BJP দফতরের সামনে। তাঁরা শমীক এবং লকেটের সামনে প্রার্থীবদলের দাবি করেন। শমীক ভট্টাচার্য রেগে গিয়ে একদল কর্মীরা বলেন, 'আপনারা চুপ করুন। একদম চুপ করে থাকুন। নির্বাচনের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।' অনেককে আবার বুঝিয়ে শুনিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টাও করেন। লকেট চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, 'আপনারা এখন ফিরে যান। বললাম তো, আমরা বিষয়টা দেখে নেব।'
কর্মীদের ক্ষোভ উগরে দেওয়ার চিত্র দেখা গেলেও এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে লকেট সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘কিছু হয়নি। মতবিরোধ থাকতে পারে। আমরা এটা পরিবার। সমস্যা মিটে যাবে।’
BJP কর্মীদের দাবি, তাঁদের মনের মতো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এই প্রার্থীকে তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। বিক্ষোভকারী কর্মীদের মধ্যে ছিলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় খুন হওয়া অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে খুন করেছিল তৃণমূল। তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হচ্ছে। এটা লড়াই না তৃণমূলকে সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা। BJP-র অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু এই প্রার্থীকে আমরা চাই না।’
তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, 'BJP এখন ভিতর থেকেই ভেঙে পড়ছে। বাংলার মানুষ তাদের ভোটবাক্সে প্রত্যাখ্যান করার আগেই, দলীয় কর্মীরাই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে দিয়েছেন। সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল বিক্ষোভ দেখা গেল শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে। ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাঁদের ঘেরাও করে রাখেন, প্রার্থী নির্বাচনে অসন্তোষ জানিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করলেন। এই কর্মীরাই একসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছিলেন, মোদী ওয়েভ-এ বিশ্বাস রেখেছিলেন। আজ তারাই নিজেদের নেতাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে জবাব দাবি করছেন। দিল্লি থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থী তাঁরা মানতে নারাজ। সব মিলিয়ে, বাংলায় BJP-র ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। দলটি এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।'