
CPIM vote share 2021 West Bengal: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় বলা যেতে পারে। সিপিএম একটি আসনও পায়নি। তবে ভোটের অঙ্ক বলছে, এখনও তাদের সমর্থন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। কয়েকটি আসনে কিছুটা হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিল সিপিএম। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই আসনগুলিই আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে।
১৬ মার্চ সিপিএম তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন; ২০২১ সালের ভোটের ফলাফল কি ২০২৬-এর লড়াইয়ের কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে? কোন কোন আসনে এখনও বামের লাইট জ্বলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে? খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
২০২১-এ সিপিএমের সামগ্রিক ফল
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম মোট প্রায় ২৮ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়েছিল। তবে পার্সেন্টেজে হিসেব করলে মাত্র ৪.৭ শতাংশ। তবে একটি আসনও জিততে পারেনি।
সেবার কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছিল বামফ্রন্ট। প্রার্থী তালিকার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল তরুণ মুখ। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সায়নদীপ মুখোপাধ্যায়, ঐশী ঘোষ, সৃজন ভট্টাচার্য বা শতরূপ ঘোষের মতো নেতারা প্রচারে আশা জাগালেও ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত মোর্চা মাত্র একটি আসন জিততে পেরেছিল। সেটিও আইএসএফের ঝুলিতে।
কোথায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিল সিপিএম
ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কয়েকটি আসনে সিপিএম কিছুটা হলেও ভোট ধরে রাখতে পেরেছিল। বিশেষত শহর ও শিল্পাঞ্চলের কিছু কেন্দ্রে বাম ভোটের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
যে আসনগুলিতে তুলনামূলক বেশি ভোট পেয়েছিল সিপিএম: যাদবপুর, বেলগাছিয়া পূর্ব, বালিগঞ্জ, সিঙ্গুর, ডোমজুড় ও উলুবেড়িয়া অঞ্চল, উত্তরপাড়া।
এছাড়াও কিছু জায়গায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে থেকেও সিপিএম উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনগুলিই ভবিষ্যতে বাম রাজনীতির সম্ভাব্য পুনরুত্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।
কেন সিপিএম কোনও আসন পেল না?
প্রশ্ন উঠেছে, এত ভোট থাকা সত্ত্বেও কেন একটি আসনও জিততে পারেনি সিপিএম। বিশ্লেষকদের মতে, মূল কারণ ছিল ভোটের মেরুকরণ। তৃণমূল ও বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধী ভোট দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে সিপিএমের ভোট থাকলেও তা আসনে রূপান্তরিত হয়নি।
২০২৬-এর আগে নতুন অঙ্ক
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম শিবির এখন ফের সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তরুণ নেতৃত্ব এবং পুরনো সংগঠন মিলিয়েই লড়াইয়ের পরিকল্পনা তাদের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২১ সালের ফলাফলে যে আসনগুলিতে সিপিএম উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিল, সেই কেন্দ্রগুলিই আগামী নির্বাচনে বামেদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, বিধানসভা ২০২৬-এর আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে পরিসংখ্যান বলছে; বাংলার রাজনীতিতে সিপিএমের ভোটার বেস এখনও পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়নি। বরং কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নীরবে টিকে আছে।