
সুপ্রিম কোর্টে তিন বিচারপতির SIR শুনানিতে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণকে 'নাটক' বলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। কী বলছে বঙ্গ বিজেপি? এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক বলেন, "পদবী বদল হয়ে গেছে বলে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। জেনেবুঝে পরিকল্পনা করে নামের গণ্ডগোল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে কারণে বয়স্ক, অসুস্থ রোগীদের SIR-এর লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা করে SIR বন্ধ করতে চাইছে।"
সুপ্রিম কোর্টে মমতার যাওয়া নিয়ে শমীকের মন্তব্য, "পুরো প্রশাসনকে এই SIR বন্ধ করতে লাগিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওভাবেই যেন SIR না চলতে পারে সেই চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে শুধু SIR এর জন্য যাননি। আনন্দপুর ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে গেছেন। যেখানে ২৫ জন মারা গেছেন, এখনও ৩০ জন নিখোঁজ। মাত্র ১০ কিমি দূরে দুর্ঘটনা, এখনও তিনি সময় পেলেন না। ১৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে দিল্লি পৌঁছে গেলেন। যে মুখ্যমন্ত্রী ইডির তল্লাশিতে চলে যান, পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জনতা বুঝে গেছেন এই সরকার চলতে দেওয়া যাবে না।"
তাঁর আরও দাবি, ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণে ভারতের কোনও জায়গা থেকে এত অশান্তি হয়নি। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ২০০৫ সালের অগাস্টে ভোটার কার্ডের দাবি করেছিলেন। যিনি ৪ অগাস্ট ২০০৫-এ সব পেপার স্পিকারের টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলে সে সময় বলেছিলেন, ওই ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা। ২০০৫-এর যে নেত্রী এর বিরোধিতা করতেন আজ তিনিই SIR-র বিরুদ্ধে ধর্না দিতে দিল্লি পৌঁছে গেলেন। বিএলএদের কীভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, ভুয়ো ভোটাররা ভোটার তালিকায় থাকুক। এটা কীকরে চলতে পারে? সব বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কমিশন থেকে সুপ্রিম কোর্টে হইচই তৈরি করাকে 'নাটক' বলে দাবি করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, ৫ মিনিটের ভাষণ দেবেন বলে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন।