
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন রাজ্য়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার আলিপুর কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করেছেন তিনি। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন, এই মামলায় হেরে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ১০০ কোটি টাকা তাঁকে দেবেন, তা দিয়ে দান-ধ্যান করবেন তিনি। কিন্তু কেন এই মামলা শুভেন্দুর?
কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের অফিস এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর সেই রেড নিয়ে যত বিতর্কের সূত্রপাত। এই তল্লাশির মাধ্যমে তৃণমূলের ভোট তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে শাহ এবং শুভেন্দুর নাম জড়িয়ে দেন। কয়লা পাচারের টাকা শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে যায় অমিত শাহের কাছে। কয়লা দুর্নীতি নিয়ে এ কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর আইনি নোটিস
নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রমাণ দিতে হবে। নইলে মানহানির মামলা করা হবে বলে শুভেন্দুর আইনজীবী সূর্যনীল দাস একটি নোটিস পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নোটিসে দাবি করা হয়, ৮ এবং ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যার কোনও ভিত্তি নেই। এই সব মন্তব্য অসত্য এবং মানহানির কারণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা দিয়েছেন শুভেন্দুর আইনজীবী। নইলে দেওয়ানির পাশাপাশি ফৌজদারি মানহানির মামলাও করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।
এবার মানহানির মামলা
আইনি নোটিসের জবাব না পেয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এক্স পোস্টে এই মামলার প্রমাণ দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, 'আমি আমার প্রতিশ্রুতি রেখেছি। অথচ আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করছেন। আমার বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার যে অভিযোগ আপনি তুলেছেন, তা জঘন্য এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানহানির নোটিসে আপনার নীরবতা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না। আপনাকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে কথা আমি দিয়েছিলাম, তা আমি রেখেছি। আজই আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। অবিলম্বে আপনার সম্মানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নয়তো অচিরেই আপনাকে আমায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যা আমি পরবর্তীতে দান-ধ্যান করব।'