
২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নথি নিষ্পত্তির ডেডলাইন ঠিক করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে কার্যত সেই কাজ এখন বিশ বাঁও জলে। কোন ভোটারকে যোগ্য বলা হবে, আর কে অযোগ্য এটা ঠিক করতেই পারছেন না ইআরও এবং এইআরও। পড়ে রয়েছে অনেকটা কাজ। আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার লিস্ট না বেরতেও পারে। আরও পিছিয়ে যেতে পারে চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট প্রকাশের কাজ।
মাথায় রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গে কয়েক মাস ধরেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর কাজ চলছে। সেক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বেরিয়ে গিয়েছে খসড়া ভোটার লিস্ট। সেখানে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। সেই তালিকায় মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটার, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার এবং অনুপস্থিত ভোটার রয়েছেন। তাদের সবার নাম বাদ গিয়েছে।
আর যতদূর খবর, আরও ১২ লক্ষ নাম এরপরেও বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ হিয়ারিংয়েই আসেননি। বাদবাকি তথ্যগত ভ্রান্তির জন্য বাদ যেতে পারেন বলে খবর।
কতটা পিছিয়ে যেতে পারে ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশ?
যতদূর খবর, ২১ তারিখের মধ্যে যদি ভোটারদের নথি নিষ্পত্তির কাজ না করা সম্ভব হয়, তাহলে পিছিয়ে যেতে পারে ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশের কাজ। সেক্ষেত্রে রাজ্যের সিইও দফতর থেকে কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও কিছুটা বাড়তি সময় চাওয়া হতে পারে। সেই মতো দেওয়া হতে পারে সম্ভাব্য তারিখ। তারপর কেন্দ্রীয় কমিশন ছাড়পত্র দিলে সেই দিন বেরবে ভোটার লিস্ট।
মাথায় রাখতে হবে, ১ এবং ২ মার্চ দেশের উপর নির্বাচন কমিশন সহ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ৫ প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসতে চলেছেন। এখন দেখার তাঁদের আসার সময়ই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরয় কি না।
আর এমন পরিস্থিতিতেই কমিশনকে নিশানা করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে তাড়াহুড়োয় SIR প্রক্রিয়া শেষ করতে চলেছে কমিশন। সেই কারণেই বারবার ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশের দিন বদলে যাচ্ছে। আর এত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার জন্য ভোটাররা হয়রানির শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ছোট ছোট ভুলের কারণে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে এই বিষয়ে মুখ খোলেনি কমিশন।