
বিধানসভা ভোট আর একমাসও বাকি নেই। তার আগেই ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বস্তা বস্তা ফর্ম ৬ আসছে কমিশনের সিইও দফতরে। এর মাধ্যমে ভিন রাজ্যের ভোটারদের বাংলার ভোটার বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই মর্মে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা দেখছি বিজেপি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। আমাদের কাছে খবর রয়েছে যে বিজেপি এজেন্টরা প্রচুর ফর্ম ৬ জমা দিচ্ছে। এটা কোনও সাধারণ আবেদন নয়। যারা এখানকার বাসিন্দা নয়, তাদের এভাবে ভোটার তালিকায় ঢোকান হচ্ছে।'
আর এই ইস্যু নিয়ে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি প্রথমেই দাবি করেছিলেন যে বিজেপি প্রচুর সংখ্যক ফর্ম ৬ কমিশনের দফতরে দিয়ে যাচ্ছে। তিনি ট্যুইট করে বলেন, 'দিল্লি ও মহারাষ্ট্র প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল। এখন আসল খেলা খেলছে বাংলায়।' আর অভিষেক যখন এক্স হ্যান্ডেলে এই লেখা লিখছেন, ঠিক তখনই ফর্ম ৬ নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাল তৃণমূল।
যদিও এই পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের মনেই প্রশ্ন, যেই ফর্ম ৬-কে নিয়ে এত কথা, সেটা আসলে কী? এই ফর্ম দিয়ে কী কাজ হয়? আর এই নিবন্ধে সেই বিষয়টা নিয়েই আলোচনা হল।
ফর্ম ৬ কী?
নির্বাচন কমিশনের একটি আবেদনপত্র হল ফর্ম ৬। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলা যায়। এই ফর্ম এখন অনলাইনেই ডাউনলোড করা যায়। এছাড়া অফলাইনেও পাওয়া ফর্ম ৬। যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যাঁর ভোটার লিস্টে নাম নেই, তিনি চাইলেই এই ফর্ম ফিলআপ করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, সাধারণত নতুন ভোটাররা এই ফর্ম ফিলআপ করে থাকেন। এছাড়া যাঁদের SIR-এ নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরাও নাম তুলতে পারেন এই ফর্মের মাধ্যমে।
এই ফর্ম কেমন দেখতে?
এই ফর্ম মোটামুটি SIR ফর্মের মতোই দেখতে হয়। এটায় প্রথমেই দিতে হয় নাম, জন্মের তারিখ, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা। তারপর একে একে একে বাবা বা অভিভাবকের নাম, এপিক নম্বর ইত্যাদি দিতে হয়। সঙ্গে লাগে ছবি। পাশাপাশি জমা দিতে হয়ে অ্যানেক্সার ডি, অ্যানেক্সার ৩ এবং ডিক্লিয়ারেশন ফর্ম হিসেবে অ্যানেক্সার ৪।
কীভাবে ফিলআপ করবেন?
অফলাইনে ভোটের কাজ যেখানে চলছে, সেই অফিসে গিয়ে ফিলআপ করে দেওয়া যায়। আর যাঁরা তেমনটা চাইছেন না, তাঁরা voters.eci.gov.in-এ যান। সেখানে গিয়ে ফর্ম ৬ ফিলআপ করুন। পাশাপাশি অ্যানেক্সারগুলিও জমা দিন। তারপর করে দিন সাবমিট। তাহলেই কাজ হবে।
আর এই ফর্ম নিয়েই এখন যত বিতর্ক। তৃণমূলের দাবি করছে, ভিন রাজ্যের মানুষকে এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটার করতে চাইছে বিজেপি। আর তাতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।