
ভোটের জন্য তৈরি হচ্ছে বাংলা। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। আর তার আগে প্রস্ততি খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় সফর করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজকুমার অগরওয়াল। নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে এবং নির্বাচনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তিনি রাজ্যের সমস্ত জেলায় পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
মনোজ জানান, এই সফরের সময় তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি বিডিও, থানার ওসি এবং জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কথা বলবেন। নির্বাচনের সময় যাতে সব ভোটাররা ঠিক ঠাক ভোট দিতে পারেন ও ভোট সন্ত্রাস যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি জেলার গ্রাসরুটে লেভেলে ভোট প্রস্তুতি যাচাই করা। পাশাপাশি ভোটের পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোট। তার আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জেলায় জেলায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিনি দেখার চেষ্টা করছেন যে ভোটের পরিকাঠামো বা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোনও ঘাটতি আছে কি না। সেই মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে আরও এক নির্বাচনী আধিকারিক জানান, এই পরিদর্শনের সময় মনোজ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। সেখানে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, সেটা দেখবেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ ভাবে হয়, সেটাও নিশ্চিত করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা তিনি নেবেন।
পাশাপাশি কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলা সফরের লক্ষ্য হল নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমেই ভোটের আগে প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে চাইছে কমিশন।
রাজ্যে মোতায়েন প্রচুর আধাসেনা
রাজ্যজুড়ে আধাসামরিক বাহিনীর মোট ২,৪০০ কোম্পানির প্রায় ২,৪০,০০০ জওয়ান পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটাই এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোতায়েন করা সর্বাধিক কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। রাজ্যে নির্বাচনের জন্য এই বাহিনীর মোতায়েন গত নির্বাচনের তুলনায় দুই গুণেরও বেশি।
এখানেই শেষ নয়, নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে এইবার রাজ্যে এতদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহিলা আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনীতে রয়েছেন প্রায় ২০,০০০ সেনা।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন চাইছে ভোটের সময় মহিলা নিরাপত্তা বাড়াতে। মহিলারা যাতে শান্তিতে ভোট দিতে পারে, তাই তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে মহিলা নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল। এরপরই এত বিরাট সংখ্যক মহিলা বাহিনীর মোতায়েন করা হয়েছে।