
পশ্চিমবঙ্গ-সহ অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একাধিক দিক থেকে ২০২৬-এর এই নির্বাচন ২০২১ সালের তুলনায় বেশ আলাদা হতে চলেছে। কেন? আসুন বুঝে নেওয়া যাক।
২ দফায় ভোট
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট হয়েছিল। এদিকে এবার মাত্র দুই দফায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অতীতে রাজ্যের একাধিক এলাকা 'সংবেদনশীল' হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বারবার বিভিন্ন দফায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু তাতে উল্টে অশান্তি বেড়েছিল। ভোটের সময় সংঘর্ষ ও হিংসার অভিযোগও উঠেছিল। তবে এ বার রাজনৈতিক দলগুলির তরফে কম দফায় ভোটের দাবি ওঠে। যুক্তি দেওয়া হয়, আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তাই অশান্তির আশঙ্কা কম। তাছাড়া বহু দফায় ভোট হলে ভোটারদের উৎসাহও কমে যায়। সেই প্রেক্ষিতেই দুই দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোটার সংখ্যা পরিবর্তন
এ বার ভোটার সংখ্যাতেও বদল হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটারের সংখ্যা কমেছে। ২০২১ সালে যেখানে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ, সেখানে ২০২৬-এ সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬০ হাজারে। অর্থাৎ প্রায় ৮৮ লক্ষ ভোটার কমেছে। যদিও এ বছর নতুন করে প্রায় ৫ লক্ষ ২৩ হাজার প্রথমবারের ভোটার যুক্ত হয়েছেন। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার মতে, SIR এর পর বিভিন্ন এলাকায় ভোটার বিন্যাস বদলাচ্ছে। এর ফলে যে আসনগুলিতে অল্পের জন্য বিজেপি জিততে পারেনি, সেখানে এবার জেতার সম্ভাবনা বাড়বে।
বিজেপির ইস্যু পরিবর্তন
রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এবার বিজেপির প্রধান ইস্যু নারী নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢিলেমি সংক্রান্ত অভিযোগ। বিজেপির দাবি, রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে না। লক্ষ্যণীয় যে, এবার বিজেপি সরাসরি ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোর থেকে বিরতই থেকেছে।
তৃণমূলের ইস্যু
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের ইস্যু খাড়া করেছে। ২০২১ সালের মতোই ‘বাঙালি অস্মিতা’ বা বাঙালির পরিচয় থাকছে। পাশাপাশি SIR বিরোধিতা, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অপব্যবহার’-এর অভিযোগ তুলে ধরছে শাসকদল।
আমজনতার ইস্যু
আমজনতার ইস্যুতেও রয়েছে পরিবর্তন। একাধিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এ বার বেকারত্বই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটার মনে করছেন, কর্মসংস্থানের অভাবই এই রাজ্যের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে বিধায়কদের বিরুদ্ধে অসন্তোষও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সব দিক থেকেই নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল ঘোষণা। গ্রীষ্ণের গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপও যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।