
কাল থেকেই উত্তপ্ত মালদার কালিয়াচক। আর এমন পরিস্থিতিতে খবর ছড়ায় যে, মোথাবাড়িতে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় দুইজনের উপর দিয়ে চলে যায় বিডিও-এর গাড়ি। দুইজনই নাকি মারা গিয়েছেন। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে এক্স পোস্ট করে গোটা বিষয়টা খোলসা করে জানান হয়।
ফেক নিউজ
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। আর এটা ভুল তথ্য। এই পরিস্থিতি পুলিশ হ্যান্ডেল করেছে। সেখানে কোনও মৃত্যুর খবর নেই। একজন কনস্টেবল এবং স্থানীয়ের সামান্য চোট লেগেছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁরা সেরে উঠছেন।
কী নিয়ে এত কথা?
বাংলায় চলছে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। এখন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাচ্ছে বলে অভিযোগ। আর এমন পরিস্থিতিতে মালদার কালিয়াচকে বুধবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বিকেল ৪টে নাগাদ উত্তপ্ত জনতা ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে রাখেন। সেই সঙ্গে অবরোধ করা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক।
আর এই খবর সামনে আসার পরই সেখানে পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। সেই পুলিশ বাহিনীর প্রয়াসে রাত ১২টা নাগাদ জুডিশিয়াল অফিসারদের বের করে আনা হয়।
তবে পুলিশ আধিকারিকদের বের করার সময়ও গাড়ির উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। তাতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আর এই সময় পুলিশও লাঠি চার্জ করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
সকালে ওঠে অবরোধ
সারারাত বন্ধ ছিল জাতীয় সড়ক। যার ফলে গাড়িতে লাইন লেগে যায়। সারারাত অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। শেষমেশ সকালে অবরোধ উঠে যায় বলে খবর মিলেছে।
২ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যায়
এহেন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই খবর ছড়ায় যে বিডিও-এর গাড়ির তলায় চাপা পড়েছেন ২ জন। তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। আর সেই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় চাউর হতেই অ্যাকশন নিল পুলিশ। তাদের পক্ষ জানিয়ে দেওয়া হয়, এটা ফেক নিউজ। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।
মমতা শান্ত থাকতে বললেন...
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকতে বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, কোনও প্ররোচনায় যেন কেউ পা না দেন। তিনি ডিলিটেড ভোটারদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
উল্টো দিকে এই ঘটনার জন্য মমতাকেই দায়ী করছে বিজেপি। মমতার উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্যই এমনটা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।