
Voting Ink History: ভোট দিতে গেলেন। আঙুলে কালির দাগ দিয়ে দিল। তারপর বেরিয়েই সেই আঙুল বাগিয়ে ধরে একটি সেলফি! আঙুলের এই দাগই যেন গণতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। কিন্তু এই বিশেষ কালি কীভাবে তৈরি হয়? এই প্রথাই বা চালু হল কীভাবে? কেনই বা এত গুরুত্ব দেওয়া হয় এই কালিকে?
ভারতে যে কোনও ভোটেই ভোটারদের আঙুলে কালি লাগানো হয়। এর নাম ‘ইন্ডেলিবল ইঙ্ক’। এই কালি এমনভাবে তৈরি, যা কয়েক দিন বা অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত আঙুলে থেকে যায়। ফলে একবার ভোট দিলে দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই বিশেষ কালি তৈরি করে Mysore Paints and Varnish Limited। কর্ণাটকের মাইসুরুর এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নির্বাচন কমিশনের জন্য এই কালি তৈরি করে আসছে। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের বহু দেশেও এই কালি রফতানি করা হয়।
ইন্ডেলিবল ইঙ্কের মূল উপাদান হল সিলভার নাইট্রেট (Silver Nitrate)। এটি ত্বকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এমন একটি রাসায়নিক দাগ তৈরি করে, যা সহজে মুছে যায় না। সাধারণ সাবান, জল বা কেমিক্যাল দিয়ে এই দাগ তোলা অসম্ভব। সময়ের সঙ্গে ত্বকের কোষ ঝরে পড়লে তবেই এই দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
ভারতে এই কালির ব্যবহার শুরু হয় ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে। তার আগে ভোটে জালিয়াতি বা একাধিকবার ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠত। সেই সমস্যা রুখতেই নির্বাচন কমিশন এই কালি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর থেকেই এটি ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
এই কালির প্রস্তুত প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সুরক্ষিত। নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুযায়ী তৈরি করা হয়। সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয় না। প্রতিটি বোতল সিল করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। ভোটের দিন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভোটারদের বাঁ হাতের তর্জনীতে এই কালি লাগানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কালি শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আঙুলে কালির দাগ থাকলে ভোটারের মাথাতেও চলতে থাকে যে তিনি ভোট দিয়েছেন। অন্যরাও সহজেই বুঝতে পারেন।
বর্তমানে ডিজিটাল ভোটিং, বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের যুগ এলেও এই কালির গুরুত্ব কমেনি। বরং এখনও এটি সবচেয়ে সহজ, এফেক্টিভ এবং সস্তায় ভোট জালিয়াতি রোখার উপায় বলা যেতে পারে।
আঙুলের সেই ছোট্ট কালির দাগই বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রতীক।