
সামনেই ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিন। রক্তক্ষয়ী দীর্ঘ যুদ্ধের পর এদিন মুক্ত হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর নির্দেশে এদিন ভোর ৫টা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি শুরু করে। সেই ইতিহাস এখন টাটকা। তারই কিছু স্মৃতি বিজয়ের দিবসের আগে পাঠকদের সামনে হাজির করা হল। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসে নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। জাতি যখন বিজয়ের খুব কাছে সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়। পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থা বেসামাল। সেসময় মরিয়া হয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কারফিউ দিয়ে রাখা হতো। বড় বোন নীপার বয়স ছিল পাঁচের কাছাকাছি। তখনও তিন হয়নি নুজহাতের। নীপা-নুজহাতদের বাড়ি ছিল ২৯/১ নম্বর পল্টন। পাকিস্তান সরকারের দেওয়া কারফিউ শেষ হলে শুরু হতো তাদের বাবা ডা. আলীম চৌধুরীর কাজ। তিনি বিভিন্ন ফার্মেসি আর ওষুধ কোম্পানি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতেন। তারপর গাড়ির বনেট ভর্তি করে সেসব ওষুধ মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন ঘাঁটিতে পৌঁছে দিতেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যে গোপন হাসপাতালটি ছিল, সেখানে গিয়েও অন্যদের সঙ্গে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতেন। নিজের এবং পরিবারের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজগুলি করতেন তিনি। তাদের সেবা পেয়ে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সুস্থ হয়ে উঠতেন এবং পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যেতেন।
বাবা সম্পর্কে এসব তথ্য দেওয়ার সময় আলীম চৌধুরীর ছোট মেয়ের চোখে-মুখে বাবার জন্য ভালোবাসা উপচে পড়ে। বাবার সাথে কাটানো খুব বেশি স্মৃতি তার মনে নেই। থাকার কথাও না। তার বাবা যখন শহিদ হন, তখন তিনি তিন বছরেরও কম বয়সি শিশু! কথা বলতে বলতে হঠাৎই তার গলার স্বর পাল্টে যায়। বেশ দৃঢ় গলায় বলতে শুরু করেন ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা। তার কণ্ঠে ঘৃণা ঝরে। বলেন , ‘জানেন পাকিস্তানিদের দোসর, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর কয়েকজন আমাদের পল্টনের বাড়ি থেকে ১৫ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনদিন পর ১৮ ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে বাবাসহ আরো কয়েকজনের ক্ষত-বিক্ষত লাশের সন্ধান পায় আমাদের পরিবারের লোকজন। বাবার বুকটা ওই অমানুষরা অনেকগুলি বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে ফেলে। বাবার সারা শরীরে ছিল নির্যাতনের চিহ্ন। কপালের বাঁ দিকে আর তলপেটে বেয়নেটের গভীর ক্ষত। আর এসবের প্রধান জল্লাদ ছিল, আশরাফুজ্জামান। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত চিকিৎসা করাই ছিল বাবার অপরাধ। অমানুষ আর জানোয়ারের দল বাবার চোখ দুটি উপড়ে ফেলে...!’
বাংলাদেশ স্বাধীনের শেষ দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করতে শুরু করে। ছোট দুই কন্যা নীপা-নুজহাতদের সামনে থেকে ১৫ ডিসেম্বর তুলে নেয়া হয় ডা. আলীম চৌধুরীকে। এমন অনেক সন্তানের সামনে পরিকল্পিতভাবে দেশের যেসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খুঁজে খুঁজে নৃশংসভাবে খুন করা হয়, তাদেরকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি। বিশাল সেই তালিকা। যার মধ্যে রয়েছেন, ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী এবং শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রকৌশলী ১৬ জনসহ মোট ১ হাজার ১১১ জন।
ডিসেম্বরের ৪ তারিখ হতে মূলত ঢাকায় নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ হতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হতে থাকে। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয়। অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখক-সহ চিহ্নিত বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসরেরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেদিন প্রায় ২০০ জনের মতো বুদ্ধিজীবীদের তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ অন্যান্য আরও অনেক স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের উপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাদের নৃশংসভাবে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। এমনকি, আত্মসমর্পণ ও যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তার সহযোগীদের গোলাগুলির অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনই একটি ঘটনায়, ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখ স্বনামধন্য চলচ্চিত্র-নির্মাতা জহির রায়হান প্রাণ হারান।
পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের বাংলাদেশের সহযোগী আল শামস, আলবদর ও রাজাকারদের দ্বারা সবচেয়ে নির্মম, নিষ্ঠুর ও জঘন্য এ অপরাধ সংঘটিত হয়। এগুলো ছিল পরিকল্পিত, হিসাব করা এবং ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি সৈন্যদের কবল থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রামরত জাতির মেরুদণ্ডকে পঙ্গু করে দেওয়া। স্থানীয় ঘাতকদের নিয়ে গঠিত ডেথ স্কোয়াডের সদস্যরা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের (সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন) তুলে নিয়ে যায়, গুলি করে বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং রায়েরবাজার ও মিরপুরের জলাভূমিতে ফেলে দেয়।
পরে এসব জলাভূমি থেকে নিহতদের বিকৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকার বাইরে অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের জঘন্য কাজ করা হয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল তারা বাঙালি এবং আলোকিত মানুষ ছিলেন। সর্বোপরি তাঁরা জাতির মূল চালিকাশক্তি শোষিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন এবং তাদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁরা প্রবল দেশপ্রেমিকও ছিলেন যারা বিশ্বাস করতেন যে একদিন জাতি স্বাধীন হবে।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। আর তাকে তালিকা প্রস্তুতিতে সহযোগিতা ও হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের পেছনে ছিল মূলত জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক গঠিত কুখ্যাত আল বদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিল বদর বাহিনীর চৌধুরী মঈনুদ্দীন (অপারেশন ইন-চার্জ) ও আশরাফুজ্জামান খান (প্রধান জল্লাদ)। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের নাখালপাড়ার বাড়ি থেকে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, যার দুটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কোয়ার্টার নম্বরসহ লেখা ছিল। তার গাড়ির ড্রাইভার মফিজুদ্দিনের দেয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী রায়ের বাজারের বিল ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ি বধ্যভূমি হতে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর গলিত লাশ পাওয়া যায়, যাদের সে নিজ হাতে গুলি করে মেরেছিল। আর চৌধুরী মঈনুদ্দীন ৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল। সে অবজারভার ভবন হতে বুদ্ধিজীবীদের নাম ঠিকানা রাও ফরমান আলী ও ব্রিগেডিয়ার বশীর আহমেদকে পৌঁছে দিত। এছাড়া আরও ছিলেন এ বি এম খালেক মজুমদার (শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারী), মাওলানা আবদুল মান্নান (ডাঃ আলীম চৌধুরীর হত্যাকারী), আবদুল কাদের মোল্লা (কবি মেহেরুন্নেসার হত্যাকারী) প্রমুখ। চট্টগ্রামে প্রধান হত্যাকারী ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার দুই ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং গিয়াস কাদের চৌধুরী।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কীভাবে তারা পরিকল্পনা করেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিল্পীসহ সারাদেশের শহর-গ্রামে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো এ নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংঘ পুরোপুরি আলবদরে রূপান্তরিত হওয়ার আগে থেকেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চলে। তবে আলবদর বাহিনী গঠিত হওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়িত্ব তাদের ওপরে দেওয়া হয়। ঢাকায় মাইক্রোবাসযোগে সবাইকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে আলবদর বাহিনী।
বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রাও ফরমান আলী বলে ধারণা করেন ইতিহাসবিদরা। ঢাকার তৎকালীন গভর্নর হাউসে (বর্তমান বঙ্গভবন) পাওয়া রাও ফরমান আলীর ডায়রিতে নিহত ও নিখোঁজ অনেক বুদ্ধিজীবীর নাম লেখা আছে। মুনতাসীর মামুন ও মহিউদ্দিন আহমেদ যৌথভাবে পাকিস্তানে গিয়ে ১৯৮৯ সালে রাও ফরমান আলীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। যা ‘সেই সব পাকিস্তানী’ শীর্ষক বইতে প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে মুনতাসীর মামুন বলেন, রাও ফরমান আলী যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে কোনো না কোনভাবে জড়িত, সেটা পরবর্তীকালে কিছু কাগজপত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে এর সঙ্গে পুরো সামরিক জান্তা জড়িত ছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীরও নীলনকশা ছিল বলেও মনে করেন ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন।
তিনি বলেন, কোনো বাঙালি কর্মকর্তাকে কোনো পদে না রাখার নির্দেশনা ছিল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে তখনকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সবাই জড়িত ছিলেন।লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কীভাবে তারা পরিকল্পনা করেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিল্পীসহ সারাদেশের শহর-গ্রামে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো এ নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংঘ পুরোপুরি আলবদরে রূপান্তরিত হওয়ার আগে থেকেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চলে। তবে আলবদর বাহিনী গঠিত হওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়িত্ব তাদের ওপরে দেওয়া হয়। ঢাকায় মাইক্রোবাসযোগে সবাইকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে আলবদর বাহিনী।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড.আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিন উল্লেখযোগ্য।