
১৯৭১ -এর উল্টো রাস্তায় হাঁটছে বাংলাদেশ। প্রবাদে আছে 'ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়', কিন্তু বাংলাদেশ মনে হয় এই নিয়মের বাইরে। কারণ ফের একবার পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সময় যে অভিজ্ঞতা সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের হয়েছিল, তা মনে রাখতে রাজি নয় ঢাকা। আর সেই কারণেই পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস।
কিছু দিন আগেই বাংলাদেশে সফরে এসে গিয়েছে পাকিস্তানি সেনা কর্তারা। বারেবারে পাকভূমে ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তাবড় তাবড় নেতা থেকে শুরু করে সেনা কর্তারা। ফলে দুই দেশের মাথাদের যে এখন সেনা নিয়ে গলায় গলায় ভাব তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এরইমধ্যে জানা গেল নতুন তথ্য। নতুন বছরের শুরুতেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান হাসান মাহমুদ খান। ৪ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির ওই সফরে বাংলাদেশ বায়ুসেনার ৬ সদস্যের দলকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল। তিনি সস্ত্রীক পাকিস্তানে যাচ্ছেন। এছাড়া, দলে থাকছেন এয়ার কমান্ডার মহম্মদ কামারুল ইসলাম, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মহম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং দু'জন ফ্লাইট লেফটেনেন্ট।
উল্লেখ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে আলাদা করে কোনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নেই। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই এযাবৎকাল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পরিচালিত হত। বর্তমানে এটি পরিচালিত হচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসের অফিস থেকে।
ভারতের জন্য বিপজ্জনক কেন?
১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্যের ফলে পূর্ব পাকিস্তান বদলে হয় বাংলাদেশ। কিন্তু, গত জুলাইতে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মতবাদ প্রকাশ্যেই মাথাচারা দিয়ে ওঠে। সুযোগ বুঝে পাকিস্তানও ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অপারেশন সিঁদুর-এর যুদ্ধ বিরতির পর পরই পাক সেনা মুখপাত্র মন্তব্য করছিল, পরবর্তী যুদ্ধে তারা ভারতকে পূর্ব প্রান্ত দিয়েও আক্রমণ করবে। ওই সেনাকর্তার কথায় স্পষ্ট ভারতের বিরুদ্ধে পরবর্তী যুদ্ধে তারা বাংলাদেশ থেকে আক্রমণ শানাতে আগ্রহী। দুই দেশের সেনার সম্পর্ক সেই অঙ্ক মেনে এগোচ্ছে বলে মনে করছে সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তবে বিষয়টির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে নয়াদিল্লিও।