Advertisement

Taslima Narsin on Chinmay Krishna: '...চিন্ময়কৃষ্ণকে মেরে ফেলা হবে,' বাংলাদেশ নিয়ে বড় আশঙ্কা তসলিমার

মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ বাংলাদেশে জেলবন্দি রয়েছেন। এবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল চট্টগ্রামের আদালত। ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় প্রভুকে পেশ করা হয়।

 আইনজীবী খুন মামলায় বিচার শুরু চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী খুন মামলায় বিচার শুরু চিন্ময় প্রভুর
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 20 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:32 PM IST

মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ বাংলাদেশে জেলবন্দি রয়েছেন। এবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল চট্টগ্রামের আদালত। ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় প্রভুকে পেশ করা হয়। আদালতের অন্দরে কালো ছাতা দিয়ে ঢেকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চিন্ময় প্রভুকে। তাঁকে ঘিরে ছিল বহু পুলিশ। 

এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেসব অভিযুক্তরা জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের কারও বক্তব্যেই চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই খুনের ঘটনার সময় চিন্ময়কৃষ্ণ দাস পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় প্রভু কোনওভাবেই এই মামলায় জড়িত নন। তাঁকে হেনস্থা করতেই এই মামলায় চিন্ময় প্রভুকে  অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীর। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আলিফ খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে চিন্ময় দাসকে। মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ৩৯। তার মধ্যে জেলে আছেন ২২ জন। এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই। চিন্ময় প্রভুর অনুগামী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বহু হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঘটনার দিন চট্টগ্রাম আদালত ভবনের মূল ফটকের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল–সংলগ্ন বান্ডিল রোড সেবক কলোনি এলাকার একটি গলিতে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে। আদালতে ভাঙচুরের প্রতিবাদে নাকি বেশ কয়েকজন আইনজীবী সেদিন মিছিল করে বান্ডিল রোডে গিয়েছিলেন। সেই সময় সশস্ত্র লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেছিল। তখন হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সাইফুল। এরপরই তাঁর ওপর চড়াও হয় অনেকে। তবে চিন্ময় প্রভু নিজে সেই সময় ছিলেন প্রিজন ভ্যানে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছিল বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ। সেই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুও। সেই সমাবেশেই নাকি তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছিলেন। এই অভিযোগেই চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। যদিও পতাকা অবমাননার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙানো হয়েছিল। যদিও দুটি পতাকা পৃথক স্তম্ভে ছিল। এবং চিন্ময় প্রভু নিজে কোনও পতাকাই লাগাননি। 

Advertisement

এদিকে চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিন।  তসলিমা নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যে মামলা। তিনি নাকি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙিয়েছিলেন। আমরা তো জানি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএস-এর পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা। কিন্তু সেই গেরুয়া পতাকাও চিন্ময় তোলেননি। এক বছরের বেশি সময় এই হাস্যকর কারণে তিনি জেল খাটছেন। তাঁকে জামিন তো দেওয়াই হল না, তাঁকে আবারও জেলে পাঠানো হল আরও একটি মিথ্যে মামলা দিয়ে, আলিফ খুনের আসামি করে। আলিফ খুন হয়েছিল চিন্ময় যখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। পর পর মিথ্যে মামলা রুজু করে কেন একজন নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করছেন ইউনুস? চিন্ময়কে কেন ভয়? তিনি নির্যাতিত হিন্দুদের মনে সাহস দিয়েছিলেন বলে? তাঁর ডাকে লক্ষ হিন্দু পথে নামত বলে? তিনি মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতেন বলে?'

 

এরপর তসলিমা আরও লেখেন, 'জিহাদি সরকারের শাসন চলছে। হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে। নিরীহ হিন্দুদের মেরে ফেলা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এই মিছিলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন। তাঁকে বিনা অপরাধে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে। আমার ভয় হয়, কখন একদিন শুনব চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি তো মরবেন না, তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পলিটিক্যাল মার্ডার তো বাংলাদেশের জেলগুলোয় অহরহই ঘটে।'
 

Read more!
Advertisement
Advertisement