
বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সাজীব ওয়াজেদ এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভোট বয়কটের আহ্বান জানান এবং জামাত-ই-ইসলামি ক্ষমতায় এলে দেশ ‘গভীর সংকটে’ পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ
সজীব ওয়াজেদের দাবি, নির্বাচনের ফল আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছে এবং ব্যাপক কারচুপি হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে ডাকযোগে জাল ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ৩০-৪০ শতাংশ ভোট পাওয়া আওয়ামি লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ, বহু নেতা-কর্মী কারাবন্দি, দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত দেড় বছরে ৫০০-র বেশি নেতা-কর্মী নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর দাবি করেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন।
‘গণতন্ত্রের মুখোশ’?
সাজীবের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মহলে গণতান্ত্রিক বৈধতা দেখাতেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগাম ৫৫ শতাংশ ভোটদানের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয়েছে এবং ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জামাত ক্ষমতায় এলে আশঙ্কা
সজীব ওয়াজেদ বলেন, জামাত-ই-ইসলামি শক্তিশালী হলে দেশে শরিয়াহ আইন জোরদার হতে পারে, নারীর অধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়তা বেড়েছে। যা প্রতিবেশী দেশগুলির জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আবেদন
বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়ে সাজীব বলেন, এটি কোনও একক দলের স্বার্থ নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমী দেশগুলিকে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চাপ তৈরি ও নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার আবেদন জানান তিনি। শেখ হাসিনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। রাজনৈতিক মহলে এই সাক্ষাৎকার ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।