
Bangladesh Election 2026: ঢাকায় রাজনৈতিক পালাবদল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি(Bangladesh Nationalist Party)। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান(Tarique Rahman)। তবে সেই শপথের আগেই কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য। ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল চুক্তি, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে সরব হলেন তাঁর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবীর।
গঙ্গা জল চুক্তি: 'জাতীয় স্বার্থই চূড়ান্ত'
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মুখে চুক্তি নবীকরণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'বাংলাদেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে।'
কূটনৈতিক মহলের মতে, চুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে এবার ঢাকার অবস্থান আগের তুলনায় বেশি কড়া হতে পারে। এতদিন নদীজল চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির স্বার্থের প্রসঙ্গই বেশি উঠে এসেছে। এমন অভিযোগও তুলেছেন কবীর। তাঁর বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।
ভারত নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ
সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিলেও, হুমায়ূনের মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সেই ভারতই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ভারতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বাড়ছে। আর এটাই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী বক্তব্যের রাজনীতি নির্বাচনে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি। ইঙ্গিত স্পষ্ট; Jamaat-e-Islami ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কিন্তু ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি ভোটে সাফল্য পাচ্ছে; এমন মন্তব্য করে তিনি পরোক্ষে ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সীমান্ত ইস্যু ও বিএসএফ
সীমান্তে গুলি ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক মাঝে মাঝেই তিক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রায়শই অভিযোগ তোলে যে Border Security Force (বিএসএফ)-এর গুলিতে তাদের নাগরিকদের মৃত্যু হচ্ছে। যদিও ভারতের তরফে দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই কড়া নজরদারি চলছে। কবিরের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শেখ হাসিনা-পরবর্তী রাজনীতি
গত বছরের অগস্টে ক্ষমতা ছাড়েন Sheikh Hasina। আওয়ামী লিগ এখন কার্যত ক্ষমতার বাইরে। কবীরের দাবি, ভারতকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ, ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ইঙ্গিতই স্পষ্ট।
কূটনৈতিক সমীকরণ কোন পথে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা জল চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা; সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি। তবে নতুন সরকারের অবস্থান কতটা কঠোর হবে, তা এখনই বলা কঠিন।
তারেক রহমানের শপথের আগেই এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে, ঢাকা-দিল্লি সমীকরণ কোন পথে মোড় নেয়।