
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলই ভোটের লড়াইয়ে অনুপস্থিত। অন্য দিকে বিরোধী শিবিরের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। এই সবের মাঝেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)। মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জিতেছে BNP। জোট মিলিয়ে আসনসংখ্যা ২১২।
কিন্তু এই নির্বাচনে একটি আসনে জিতেছে 'BJP' ও। না, ভারতের বিজেপি নয়। Bangladesh Jatiya Party বা BJP। তবে ভারতের Bharatiya Janata Party-র মতো তাদের প্রতীক ‘পদ্ম’ নয়। সেদেশের BJP-র প্রতীক ‘গরুর গাড়ি’।
অন্য দিকে সেদেশে ‘হাতি’ প্রতীকের Bangladesh Republican Party এবং ‘সাইকেল’ চিহ্নের একটি জাতীয় দলও আছে। যদিও তারা একটিও আসন পায়নি। ভারতের Bahujan Samaj Party-র প্রতীকও হাতি। Samajwadi Party-র প্রতীক সাইকেল। একই ভাবে মুসলিম লিগের সিম্বল ‘হাত’। ঠিক এদেশের কংগ্রেসের মতোই।
তারিক রহমানের প্রত্যাবর্তন
বিএনপি-র শীর্ষ নেতা Tarique Rahman দু’টি আসন; ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬; থেকে জয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে এই জয় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
জামাত জোটের উত্থান
এই ভোটে Bangladesh Jamaat-e-Islami দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তারা একক ভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে, জোট মিলিয়ে সংখ্যা ৭৭। কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ও নজর কেড়েছে।
স্থগিত ফল ও আইনি জট
আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আদালতের নির্দেশে প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি মিললেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা হয়নি।
মহিলা প্রার্থীদের সাফল্য
এই নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। বিএনপি-র ছয় জন মহিলা প্রার্থী জয় পেয়েছেন। যদিও বহু দশক পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক লড়াইয়ে কোনও শীর্ষ মহিলা নেতা সরাসরি ময়দানে ছিলেন না।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রায় ১২.৭ কোটি ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন প্রথমবারের ভোটার। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় দশ লক্ষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল; যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই দাবি প্রশাসনের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফল বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি-র স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভবিষ্যতের নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।