
BNP Massive Win Cause: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় পালাবদল দেখা গেল। ৩০০ আসনের সংসদে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়; একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকে এবং চট্টগ্রাম-৩ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে পেয়েছে ৮টি আসন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাসনে থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গত কয়েক বছরে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের শক্ত ভিত গড়ে তোলে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি দূরত্ব বজায় রেখে বৃহত্তর ভোটব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করার কৌশল নেয় দলটি, যা নির্বাচনে ইতিবাচক ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দলটি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিলেও মাত্র ৬টি আসনে জয় পায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হলেও সামগ্রিক ফল আশানুরূপ হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করাই এনসিপির বড় কৌশলগত ভুল ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন বিতর্কিত ভূমিকা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের ইতিহাস ভোটারদের একাংশকে বিরূপ করে তোলে।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেও এনসিপি সমালোচনার মুখে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার প্রভাব ভোটে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনসিপির ভেতরেও জোট প্রশ্নে মতভেদ দেখা দেয়, যা সাংগঠনিকভাবে দলকে দুর্বল করে।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে বিএনপি কৌশলগত সংযম ও সংগঠনিক প্রস্তুতির সুফল পেয়েছে, আর এনসিপি জোট রাজনীতির ঝুঁকির মুখে পড়ে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।