Advertisement

Bangladesh: বাংলাদেশে এবার হুমকির মুখে হিন্দু জেলাশাসক, পরবর্তী টার্গেট? পরিস্থিতি খুব খারাপ

বাংলাদেশে ফের সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে প্রশাসন। এবার আক্রান্ত এক হিন্দু মহিলা জেলাশাসক। প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, হুমকি এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথকে।ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথকে।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Jan 2026,
  • अपडेटेड 1:23 PM IST
  • বাংলাদেশে ফের সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে প্রশাসন।
  • এবার আক্রান্ত এক হিন্দু মহিলা জেলাশাসক।
  • প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, হুমকি এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

Bangladesh Communal Violence: বাংলাদেশে ফের সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে প্রশাসন। এবার আক্রান্ত এক হিন্দু মহিলা জেলাশাসক। প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, হুমকি এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রশ্নের মুখে সে দেশের সংখ্যালঘু সরকারি আধিকারিকদের নিরাপত্তা।

ঘটনাটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম-৩ বিধানসভা কেন্দ্রের। অভিযোগ, জামাত-ই-ইসলামির এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরই ক্ষোভ উগরে দেন দলের সমর্থকরা। ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কুড়িগ্রামের জেলাশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথকে। মনোনয়ন কেন্দ্রের ভিতরেই প্রকাশ্যে তাঁকে লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ শুরু হয়। ‘এই ডিসি এখানে থাকতে পারবে না’, স্লোগান তুলে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি পদ না ছাড়লে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় অন্নপূর্ণা দেবনাথ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করেন। সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়ন কক্ষের ভিতরে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন সমর্থকরা। অভিযোগ, তাঁকে ‘ইস্কনের সদস্য’ এবং ‘আওয়ামী লিগ ও ভারতের দালাল’ বলেও কটূক্তি করা হয়। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী ব্যারিস্টার সালেহির মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি একইসঙ্গে ব্রিটেন ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন। সেই কারণেই আইন মেনে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয় বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর INDIA TODAY-এর তরফে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে, তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সূত্রের দাবি, গোটা পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নীরবতাই পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জেলাশাসকেরা অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এই পদে নিয়োগ পান তাঁরা। প্রশাসনিক দিক থেকে এই পরীক্ষা ভারতের ইউপিএসসি পরীক্ষার সমতুল বলেই ধরা হয়।

Advertisement

একজন বিসিএস উত্তীর্ণ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ এবং পদচ্যুতির হুমকি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা এক বিষয়। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তাকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণ করা যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তা বলাই বাহুল্য।

এই ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সরকারি আধিকারিকদের নিরাপত্তা, প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা; সব নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইনানুগ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিককে যদি এহেন হেনস্তার শিকার হতে হয়, তা হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাজ কতটা নির্বিঘ্নে চলবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সেদেশের রাজনৈতিক মহলে।

Read more!
Advertisement
Advertisement