
বাংলাদেশে ফের এক হিন্দু যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। হত্যার ঠিক আগে সহকর্মীকে লক্ষ্য করে অভিযুক্তের প্রশ্ন ছিল, 'আমি কি তোমাকে গুলি করব?'। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কথোপকথনের পরই গুলিতে প্রাণ হারান হিন্দু যুবক বজেন্দ্র বিশ্বাস। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাস ও অভিযুক্ত নোমান মিয়া, দু’জনেই বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। আনসার বাহিনী মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গ্রামীণ সুরক্ষা ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কাজে নিযুক্ত একটি সহায়ক আধাসামরিক বাহিনী।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত লাবিব গ্রুপ পরিচালিত সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন বজেন্দ্র বিশ্বাস, নোমান মিয়া ও আরও প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় বজেন্দ্র ও নোমান পাশাপাশি বসে ছিলেন। আচমকাই নোমান তার হাতে থাকা শটগান বজেন্দ্রের বাম উরুতে ঠেকিয়ে মজা করে প্রশ্ন করেন, 'আমি কি গুলি করব?', এরপরই গুলি ছোড়া হয়। গুলিটি বজেন্দ্রের উরু ভেদ করে গুরুতর জখম করে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
ঘটনার সময় উপস্থিত আনসার সদস্য মোহাম্মদ আজহার আলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, 'নোমান মিয়া ও বজেন্দ্র বিশ্বাস আমার ঘরেই একসঙ্গে বসেছিলেন। কোনও তর্ক বা ঝগড়া হয়নি। হঠাৎ নোমান শটগান উরুতে রেখে ওই কথা বলে গুলি চালান।'
হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বজেন্দ্র বিশ্বাসকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তের দাবি, পুলিশের অবস্থান
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নোমান মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মজা করার সময় দুর্ঘটনাবশত বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা আরেক আনসার সদস্যও একই বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না। ওসি বলেন, 'এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বজেন্দ্র বিশ্বাসের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। চলতি মাসের ১৮ ডিসেম্বর ভালুকাতেই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই ময়মনসিংহের বাইরে আরও এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে।