
বাংলাদেশের জাতীয় ভোটে বিরাট জয় পেয়েছে বিএনপি। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন তারেক রহমান। বিদায় নিচ্ছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। আর নিজের বিদায়ী ভাষণেও আরও একবার ভারতের সেভেন সিস্টার্স শব্দটি মুখে এনে বিতর্ক উস্কে দিলেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে আসে নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্সের নাম। তবে তিনি একবারও ভারতের নাম সরাসরি বলেননি।
মহম্মদ ইউনূস বলেন, 'আমাদের বিস্তৃত সমুদ্র কোনও সীমানা নয়, বরং এটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি রাস্তা। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্স সহ পুরো এলাকাতেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সম্ভব। ইকোনোমিক জোন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে শুল্ক বিহীন বাজার এই অঞ্চলকে গ্লোবাল ম্যানুফাকচারিং হাবে পরিণত করতে পারে।'
কী বলতে চাইলেন ইউনূস?
নিজের বক্তব্যে সেভেন সিস্টার্সের কথা বলেছেন ইউনূস। তবে একবারও ভারতের নাম নেননি। আর অনেক বিশেষজ্ঞই বিষয়টাকে সোজা চোখে দেখছেন না। তাঁদের মতে, ইউনূসের নিশ্চয়ই বিরাট অভিসন্ধি রয়েছে। তাই তিনি ইচ্ছে করেই সেভেন সিস্টার্সের নাম করছেন।
অনেকেই মনে করছেন, এভাবে আলাদা করে উত্তরপূর্ব পূর্ব ভারতের নাম নেওয়ার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতায় উস্কানি দিতে চাইছেন ইউনূস। আর তাঁর এই আচরণেরই আগে নিন্দা করেছিল ভারত। কিন্তু তিনি শোনার পাত্র নন। তাই আবারও সেই একই কাজ করলেন।
কী দাবি ইউনূসের?
ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ইউনূসের মাথা ব্যথার শেষ নেই। তিনি ২০২৫ সালের মার্চ এবং এপ্রিল নাগাদ তিনি চিন গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়েই ইউনূস দাবি করেন যে ভারতের উত্তর পূর্বের এই রাজ্যগুলি সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই চিন চাইলে নিজেদের ব্যবসা বাংলাদেশের মাধ্যমে করতে পারে।
মাথায় রাখতে হবে, উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে ভারতের একটু হলেও চিন্তা রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী চিন সেখানে নিজের ক্ষমতা দেখাতে চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও উল্টো গাইছে। সেটাই আরও চিন্তার। কারণ, বাংলাদেশের খুব কাছেই রয়েছে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেক। এর মাধ্যমেই গোটা উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে সারা দেশে যোগাযোগ হয়। তাই এই জায়গার সার্বভৌমত্ব রক্ষা নয়াদিল্লির কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। যদিও সেই কাজটা এখনও পর্যন্ত ঠিকঠাকই করে চলেছে ভারত।
এমতাবস্থায় নতুন সরকার গঠন করতে চলেছেন তারেক। তাঁর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আপাতত মধুর। যদিও এই নিয়ে এখনই জোর দিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।