
বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি মাসে ১২ তারিখ। গণভোট হবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও। আর সেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ ভারতের শরণাপন্ন হল। ভোটে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানাল ইউনূসের দেশ। তবে ভারতে এখনও পর্যন্ত পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা অন্যতম। কমপক্ষে ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে তারা। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন বিশ্বব্যাপী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষকও অংশ নেবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এবারের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—
এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) থেকে ২৮ জন,
কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন,
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI) থেকে ৭ জন,
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI) থেকে ১ জন।
এছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন পর্যবেক্ষক।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব লামিয়া মুর্শেদ বলেন, 'আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ আমন্ত্রিত বেশ কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।'
বাংলাদেশ ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া সহ আরও কয়েকটি দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যেসব দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।
এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও নির্দল প্রার্থী সহ প্রায় ২ হাজার জন। ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক হিংসার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসে নির্বাচন সংক্রান্ত হিংসার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।