
বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের তাণ্ডবকারীদের বিরুদ্ধে যত দেওয়ানি, ফৌজদারি মামলা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। অর্ডিন্যান্স জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকার। এই অর্ডিন্যান্সের অর্থ হল অসংখ্য পুলিশকর্মী, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও হাসিনার সমর্থকদের যারা খুন করেছিল, তাদের শাস্তি হবে না। বিচার প্রক্রিয়াও চলবে না।
এই খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশি সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশ (ইউএনবি) জানিয়েছে, রবিবার রাতে এই অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। এবার থেকে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ছাড় পাবে। সেখানে উল্লেখ, 'অর্ডিন্যান্সটি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত বিদ্যমান দেওয়ানি ও ফৌজগদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেয়। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও মামলাও হবে না।'
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার মহম্মদ ইউনূস আমল দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীদের। সেই সময় আওয়ামি লিগের অনেক নেতা-কর্মী খুন হযেছিলেন, সংখ্যালঘুদের উপরও অত্যাচার নেমে এসেছিল। সেই সব অসহায় মানুষগুলো আর বিচার পাবেন না।
দ্য ঢাকা ট্রিবিউনের মতে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুলিশের তরফে প্রকাশিত একটি তালিকাতে জানানো হয়েছিল, জুলাই-অগাস্ট বিক্ষোভের সময় ৪৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল হিন্দু পুলিশকর্মীকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া বা থানায় আক্রমণের মতো সহিংস ঘটনা। হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পরও সেখানে পুলিশের উপর অত্যাচার কমেনি। এখনও অরাজকতা রয়েছে।
বিদ্বেষের মুখে পড়তে হয়েছিল হিন্দুদেরও। হাসিনার ভারত চলে আসার পরবর্তী মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সংখ্যালঘুদের উপর ২০০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। সেই তালিকায় ছিল খুন, রাহাজানি, বাড়িঘর ধ্বংস, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাতের মতো ঘটনা।
তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এও দাবি, এই অর্ডিন্যান্সের কারণে বাংলাদেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে এমন কোনও অর্ডিন্যান্স জারি করার ক্ষমতা এই সরকারকে দেয় না। ফলে এরপর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার এই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারে।