
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে তত্পরতা শুরু করে দিলেন। বাংলাদেশ সেনার শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের ব্যাপক রদবদল করতে শুরু করল BNP সরকার। এই বড় রদবদলে তারেকের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-র একটি বার্তা স্পষ্ট। তা হল, নয়াদিল্লিতে ঢাকা সেনা প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিত্বেও পরিবর্তন
বাংলাদেশের সেনা সদর দফতরের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গোয়েন্দা পদে নতুন নিয়োগ ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বালাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিত্বেও পরিবর্তন আসছে।
একইসঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ মইনুর রহমানকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই পদটি অপারেশন সংক্রান্ত প্রধান দায়িত্ব বহন করে। তিনি এর আগে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামিমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।
সামরিক গোয়েন্দা বিভাগেও বড় বদল
সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেজর জেনারেল মনোনীত কায়সার রশিদ চৌধুরী ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমানে তিনি সেনা সদর দফতরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে কর্মরত। এছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি এর আগে চট্টগ্রামে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে।
ফিল্ড নেতৃত্বেও রদবদল হয়েছে। মেজর জেনারেল জেএম এমদাদুল ইসলাম পূর্ববঙ্গ রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট হয়েছেন। অন্যদিকে মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সালিমকে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব
এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা চেন অফ কমান্ডে নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। সামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একযোগে এই পুনর্বিন্যাস ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনূসের আমলে ভারতের সঙ্গে যে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তারও নিরসন হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতার জট খুলে যাচ্ছে।