
বাংলাদেশের ভারত বিরোধী নেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাহায্য চাইল সেই দেশের সরকার। তারা মানবাধিকার হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছে। আজ রবিবার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের প্রেস উইংয়ের তরফে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর থেকে কার্যত পরিষ্কার বাংলাদেশ সরকার হাদির খুনিদের ধরতে পারছে না, ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা রাষ্ট্রসংঘের সাহায্য চাইছে।
তাদের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারে জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ৬ ফেব্রুয়ারি ওএইচসিএইচআরের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠিতে হাদি খুনের ঘটনায় রাষ্টসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার আরও জানিয়েছে, হাদির খুনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বদ্ধপরিকর তারা। সরকার ও প্রশাসন সেই ব্যাপারে সব রকমের চেষ্টা বজায় রেখেছে। সেজন্যই রাষ্ট্রসংঘকে এই বিষয়ে অবহিত করে তাদের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
ওসমান হাদি বাংলাদেশের পরিচিত নাম। ইনকিলাব মঞ্চের ওই নেতা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাটিতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ। তিনি নানা সময় ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য দিয়েছিলেন। ইনকিবলাব মঞ্চের ব্যানারে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু গত ১২ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়। তারপর থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। নতুন করে আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই দেশে বসবাসকারী একাধিক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়। চলে লুটপাটও।
হাদির মৃত্যুর পর থেকেই খুনিদের গ্রেফতারের দাবি ওঠে। চাপ বাড়তে থাকে বাংলাদেশ সরকারের উপর। চাপের মুখে পড়ে এক এক দিন এক এক রকম বয়ান দিতে থাকে সেই দেশের পুলিশ। তবে ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও এখনও অধরা খুনিরা। এখন রাষ্ট্রসংঘের সাহায্য প্রার্থনা করল তারা।