Advertisement

Diesel Crisis : অতিরিক্ত ডিজেলের জন্য ভারতের কাছে হাত পাতছে বাংলাদেশ, দেবে কেন্দ্র?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। এই আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনটি ২০১৭ সালে চালু হয়। এর মাধ্যমে অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নিয়মিতভাবে ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। 

ভারতের কাছে ডিজেল চাইছে বাংলাদেশভারতের কাছে ডিজেল চাইছে বাংলাদেশ
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও ঢাকা ,
  • 11 Mar 2026,
  • अपडेटेड 2:37 PM IST
  • যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ভয়াবহ সঙ্কটে ভুগছে বাংলাদেশ
  • ভারত তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ভয়াবহ সঙ্কটে ভুগছে বাংলাদেশ। ভারত তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ পাচ্ছে তারেক রহমানের দেশ। তবে অতিরিক্ত ডিজেলের আবেদনও  জানিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সেই আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

সূত্রের খবর, গত সপ্তাহের শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) অসমের থেকে অতিরিক্ত ৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানায়। 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। এই আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনটি ২০১৭ সালে চালু হয়। এর মাধ্যমে অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নিয়মিতভাবে ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। 

ভারতের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'বাংলাদেশে যে ডিজেল পাঠানো হচ্ছে তা দুই দেশের মধ্যে চলমান নিয়মিত জ্বালানি বাণিজ্যেরই অংশ। তবে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।' অর্থাৎ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ সংকটজনক। জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগেভাগেই ইদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের চাপ কমানো।

বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও ধাক্কা লাগলেই দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। গত সপ্তাহে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেক জায়গায় তড়িঘড়ি করে জ্বালানি মজুত করার প্রবণতা দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দৈনিক জ্বালানি বিক্রির ওপরও সীমা আরোপ করেছে।

অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠকে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ আগামী চার মাসে ভারতের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। 

Advertisement

এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই একটি চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে মোট ১,৮০,০০০ টন ডিজেল আমদানি করবে। সেই চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে সংকটের সময়ে বাংলাদেশসহ একাধিক প্রতিবেশী দেশকে জ্বালানি সহায়তা দিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা আঞ্চলিক জ্বালানি কূটনীতির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement