Advertisement

US Bangladesh Trade Deal: ভোটের মুখে আমেরিকার সঙ্গে কী গোপন চুক্তি ইউনূসের? উদ্বেগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই আবহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।

ইউনূসের মতলব নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাইউনূসের মতলব নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 03 Feb 2026,
  • अपडेटेड 1:52 PM IST

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক  কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই আবহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সুফল কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত কী থাকবে, কোন কোন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এসব নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা নানা প্রশ্নও তুলছেন।

বাংলাদেশের শীর্ষ রফতানি আয়কারী রেডিমেড পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান প্রথম আলোকে বলেছেন, চুক্তির খসড়ার ওপর আলোচনা দরকার। কারণ, এ চুক্তির ফলে যাঁরা ক্ষতির শিকার হতে পারেন, তাঁরা এ ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছেন। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছে।  

ইনামুল হক খান আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনাকাটার যে লক্ষ্য, তাতে আশা করা যায় যে পাল্টা শুল্কের হার ১৫ শতাংশে নামবে (এখন ২০ শতাংশ)। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এটিকে গুছিয়ে এনেছেন বলে শুনছিলাম। চুক্তি সই নির্বাচনের তিন দিন আগে এসে ঠেকেছে দেখে অবাক হয়েছি। আমি এখনো মনে করি এটা নির্বাচনের পর হওয়ার দরকার। কারণ, এর বড় ধরনের তাৎপর্য রয়েছে।’

রফনিকারকদের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী ব্যবসায়ীরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাঁরা জানতে চান, সেখানে কী কী থাকছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চুক্তির খসড়ায় কী আছে জানা নেই। ফলে মন্তব্য করা কঠিন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তর্বর্তী সরকার এ পথে না গেলেই পারত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তি করার দায়িত্ব থাকাটা ভালো ছিল।

Advertisement

বাংলাদেশের বিদেশ ও বাণিজ্য মন্ত্রকের একাধিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় একটি নির্ধারিত শুল্কহার স্থির করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুল্ক কিছুটা কমতে পারে, তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যা পরে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনার পর গত বছরের ৩১ জুলাই সেই শুল্ক আরও কমে ২০ শতাংশে নেমে আসে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি এবং বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া জ্বালানি, কৃষিপণ্য—বিশেষ করে তুলো ও গম আমদানি বাড়ানো এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারে। আগের দুই বছরেও এই ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছিল।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের  বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী শুল্ক কমার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, '২০ শতাংশের মধ্যেই শুল্ক থাকবে বলে আমাদের  আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন যেটা আছে, তার চেয়ে ভালো হবে।' তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে চূড়ান্ত অগ্রগতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি মনোযোগ প্রয়োজন। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, '৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হবে। শুল্ক কিছুটা কমতে পারে—এমন ধারণা আছে, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।'

Read more!
Advertisement
Advertisement