
এবার বাংলাদেশে আন্দোলনে নামল সংখ্যালঘু হিন্দুরা। গত ১৮ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে খুন হয়েছেন ৬ জন হিন্দু বাংলাদেশি। সোমবারও রাত্রিবেলায় নৃশংস ভাবে খুন করা হয় নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীকে। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে শামিল হলেন বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার মানববন্ধন করে এই খুনের বিচার চেয়ে সরব হলেন ব্যবসায়ীরা। চরসিন্দুর বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী স্থানীয় বাজার সমিতির ব্যানারে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নইলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
মৃতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজেন্দ্র চোহরি বলেন, "মণি চক্রবর্তী এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল না। আমাদের এখন কথা বলার শক্তি নেই। মণির কোনও শত্রু থাকার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।"
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এবং মৃতের আত্মীয় প্রদীপ চন্দ্র বর্মন এই আক্রমণকে 'পূর্বপরিকল্পিত' বলেই তোপ দাগেন। তিনি বলেন, "আগে নিশ্চয়ই শত্রুতা ছিল। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন বা মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়নি। শুধুমাত্র খুন করেই পালিয়ে যায়। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।"
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কিন্তু এই প্রথম কোনও হিন্দুর মৃত্যু ঘটল এমন নয়। এর আগে ৩৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কমপক্ষে ১১ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মুদি দোকানি মণি চক্রবর্তীকে খুনের দিনই যশোরে হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ময়মনসিংহ, রংপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী, একাধিক জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে।
৩ জানুয়ারি খুন করা হয়েছিল খোকন চন্দ্র দাসকে। ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর গণপিটুনি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে খুন করে, তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল উন্মত্ত জনতা।
তবে তার আগেও রয়েছে একাধিক ঘটনা। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার কোনও নতুন ঘটনা নয়। একটি পরিসংখ্যান দেখে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের জনগণনায় দেখা গিয়েছে, হিন্দু জনসংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৩.১৩ মিলিয়নের কাছাকাছি। যা কিনা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭.৯৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে হিন্দুদের এই আন্দোলনকে মোটেই বিক্ষিপ্ত ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং গত কয়েক বছরে যেভাবে হিন্দুদের উপর বারেবারে অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসছে, যেভাবে গত একমাসে টানা হিন্দুরা খুন হচ্ছেন, তার প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে হিন্দুরা প্রতিবাদে শামিল বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।