
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার আবহে আরও একটি নৃশংস ঘটনার সামনে এল। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী সীমা দাস জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল না। শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণেই কি আমার স্বামীকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হল, তা আমি বুঝতে পারছি না।' তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ই এই হামলার মূল কারণ হতে পারে।
সীমা দাসের আরও দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন দাস দু’জন হামলাকারীকে চিনতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই অভিযুক্তরা তাঁর মুখ ও মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। 'আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই। যারা হামলা করেছে তারা মুসলিম ছিল এবং পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টা করছে,' বলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খোকন দাস নিজের গ্রামে ওষুধ ও মোবাইলের ব্যবসা করতেন। বুধবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তিনি কোনওক্রমে কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এতে তৎক্ষণাৎ প্রাণে বাঁচলেও তাঁর শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে প্রথমে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।