
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী। তাঁকে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। পরিবারের অভিযোগ, খুনের পর দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে খুন তা এখনও পরিষ্কার নয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। এদিকে সেদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের দাবি, বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের খুন করা হচ্ছে। ইউনূস সরকারের আমলে উগ্র ধর্মান্ধদের বাড়বাড়ন্ত বেড়েছে, সেটা ফের প্রমাণ করল এই ঘটনা।
ঘটনা ময়মনসিংহের ত্রিশালে। উপজেলার বগার বাজার চৌরাস্তায় বড় চালের দোকান আছে সুসেন চন্দ্র সরকারের। এলাকার বড় ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পরিচিত। রাত তখন এগারোটা। দোকানই ছিলেন। তখন কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন সুসেন। তারপর দোকানের শাটার বন্ধ করে পালিয়ে যায় খুনিরা।
এদিকে রাতে বাড়ি ফিরছেন না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। তাঁরা দোকানের শাটার খুলে দেখেন, ভিতরে পড়ে মৃতদেহ। তড়িঘড়ি তা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে সুজন সরকারের অভিযোগ, তাঁদের দোকান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তিনি বলেন, 'আমাদের এখানে দীর্ঘদিনের চালের ব্যবসা। বাবা বাড়ি ফিরছে না দেখে দোকানে এসে দেখি এই কাণ্ড। আততায়ীরা অনেক টাকা লুটপাট করেছে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি। দোষীদের শাস্তি চাই। তবে আমাদের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতে নেই।'
জুলাই আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা চরমে। দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কমপক্ষে ১১ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে।
৫ জানুয়ারি যশোরে হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে নরসিংদীতে হামলায় মৃত্যু হয় মুদি দোকানি মণি চক্রবর্তীর। এর আগে ময়মনসিংহ, রংপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি-সহ একাধিক জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে।