Advertisement

Bangladesh Hindu: বাংলাদেশে জনবহুল বাজারে হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে খুন , মাথায় পরপর ৭টি গুলি

বাংলাদেশে ফের প্রকাশ্যে খুন আরও এক হিন্দু যুবক। সোমবার বিকেলে যশোরের মণিরামপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ব্যক্তিকে। জনবহুল বাজারের মধ্যেই হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

 নিহতের নাম রানা প্রতাপ (৪৫)। নিহতের নাম রানা প্রতাপ (৪৫)।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Jan 2026,
  • अपडेटेड 8:31 PM IST
  • বাংলাদেশে ফের প্রকাশ্যে খুন আরও এক হিন্দু যুবক।
  • সোমবার বিকেলে যশোরের মণিরামপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ব্যক্তিকে।
  • গত ৩ সপ্তাহে পঞ্চমবার কোনও হিন্দু ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে খুন করা হল।

বাংলাদেশে ফের প্রকাশ্যে খুন আরও এক হিন্দু যুবক। সোমবার বিকেলে যশোরের মণিরামপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ব্যক্তিকে। জনবহুল বাজারের মধ্যেই হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। নিহতের নাম রানা প্রতাপ (৪৫)। যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মণিরামপুর উপজেলার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কপালিয়া বাজার এলাকায় ছিলেন রানা প্রতাপ। সেই সময়ই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরপর ৭টি গুলি চালানো হয় তাঁর মাথা লক্ষ্য করে। এই নিয়ে গত ৩ সপ্তাহে পঞ্চমবার কোনও হিন্দু ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে খুন করা হল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রানা প্রতাপ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করার আগেই মৃত্যু হয় বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের জেরে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মণিরামপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে খবর।

মণিরামপুর থানার ওসি রাজিউল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহতের দেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলেই রয়েছি। দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।' তবে কারা এই হামলার পিছনে, কিংবা ঠিক কী কারণে এভাবে গুলি চালানো হল, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেননি।

হামলাকারীদের পরিচয় এখনও অজানা। কতজন দুষ্কৃতী হামলায় জড়িত ছিল, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পিছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজার এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হিন্দু ব্যক্তির উপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের।

কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের এক গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতার হামলায় প্রাণ হারান তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শিরোনামে আসে আরও একটি নাম, অমৃত মণ্ডল।

এরপর ময়মনসিংহ জেলায় গুলি করে হত্যা করা হয় হিন্দু ব্যক্তি বজেন্দ্র বিশ্বাসকে। প্রকাশ্যে এই হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। একইভাবে, হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাসকেও খুন করা হয়। অভিযোগ, গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন যশোরের মণিরামপুরের রানা প্রতাপ বৈরাগী। এই অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক হিন্দু ব্যক্তির প্রকাশ্যে মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, একের পর এক এমন ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবু প্রকাশ্যে হামলা ও মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি থামছে বাংলাদেশে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement