
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। অর্থাৎ এবার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ক্ষমতায় আসবে নির্বাচিত সরকার। এদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তার ১৭ দিনের মাথাতেই মহম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করবেন। ইউনূস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সরকারি ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন। তাঁর অধীনে থাকা সমস্ত উপদেষ্টার সম্পত্তির হিসাব একে একে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখনও কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, অধিকাংশ উপদেষ্টাই সম্পত্তির হিসাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগাস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিল বিভিন্ন মহল। তবে প্রায় দেড় বছর হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা স্বীয় (নিজ) বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।
সম্পদের বিবরণ জমা পড়েছে, প্রকাশ হয়নি
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর খবর অনুসারে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান আছে। আগের আয়কর বছরে সবাই রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।