
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে খুন হয়েছিলেন পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু দাস। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠেছিল ভারতও। সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও। এবার এই ঘটনায় দীপুচন্দ্র দাসের পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণসহ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের পরামর্শে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দীপু দাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এ কারণে তাঁর পরিবারের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকাঘর নির্মাণসহ আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কত টাকা দেওয়া হচ্ছে?
এই সহায়তা ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার ইউএনও-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।
এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা ড.সি.আর. আবরার বলেন, ‘দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনও অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনও স্থান নেই। তাঁর পরিবারেরকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায় বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।’ শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনও ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না।’
প্রসঙ্গত, গতবছর ১৮ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর পর গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার নিহতের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে পরিদর্শন করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। তিনি জানান, দীপু দাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তাই পরিবারটির নিরাপদ বাসস্থান ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য সরকার সহায়তা দেবে।