
বাংলাদেশ ফের অস্থির। 'ইনকিলাব মঞ্চে'র অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড বসায়।
শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটের দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত। যমুনার সামনে অবস্থানরতদের সঙ্গে যোগ দিতে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা বিক্ষোভকারীরা এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, পরে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল ও বোতল ছোড়ে। ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
ঘটনার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়, যা শাহবাগ মোড়ের দিকে এগোয়। এদিকে, সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই হিংসা নতুন করে রাজনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ঢাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যমুনা ও যমুনা গেস্ট হাউস সংলগ্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে সব ধরনের বিক্ষোভ ও জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে ফের অশান্ত পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।