
নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের ওপর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরানো এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি গড়ে তোলা।
শনিবার জয়ের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলাদেশের বিদেশনীতির ভিত্তি হবে জাতীয় স্বার্থ। তাঁর কথায়, 'বাংলাদেশ তার কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে। আমরা কারও প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করব না। দেশের স্বার্থই সবার আগে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।'
বিশেষ করে ভারত-সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার মাঝেই তিনি জানান, কোনও দেশের প্রতি ঝোঁক নয়, ভারত, চিন বা পাকিস্তান, সবার সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করবে নয়া সরকার। কোনও দেশকে ‘প্রভু’ হিসেবে দেখা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রক্তাক্ত ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা-র পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হয়। ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তাঁর কথায়, 'বিদেশনীতি নিয়ে আমাদের ভাবনা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থই সবার আগে, এটাই আমাদের বিদেশনীতি।' ভারত, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবেন? এই প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমাদের কাছে প্রত্যেক দেশের জন্য বিদেশনীতি এক।'
প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর এই নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতেই এগোতে চায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, এই পথেই হাঁটতে চাইছে নতুন সরকার।