
বাংলাদেশের পদ্মানদীতে পড়ে গেল বাস। আর সেই দুর্ঘটনা মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। পাশাপাশি অনেকে আহত বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।
যতদূর খবর, সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের তৃতীয় ফেরিতে উঠছিল। আর তখনই বিপত্তি। ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। আর সেই দুর্ঘটনাতেই অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সকলের টানা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বাসটিকে নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়।
যতদূর জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও বাস নদীতে পড়ার সময়ই কয়েকজন যাত্রী শুরুতেই সাঁতরে বা লাফিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে খবর।
সকাল থেকেই শুরু ফের শুরু হবে উদ্ধার অভিযান
উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আজ সকাল ৬টা থেকে পুনরায় শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তাঁরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করছেন বলেই খবর।
কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা?
সংবাদ সংস্থা প্রথম আলো সূত্রে খবর, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময় দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষারত ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিপায় কুমারখালী থেকে। ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল বাসটি। প্রথমে ওই বাসে মাত্র ৬ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। সবশেষে বাসটিতে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এই সংবাদ মাধ্যম আরও জানিয়েছে, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটিকে ৬ ঘণ্টা পর টেনে তুলেছে। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ দেখা যায়। সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে জল থেকে ওপরে তোলা হয়।
ঘটনার কথা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলেছেন।
এই দুর্ঘটনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হচ্ছে বলে খবর। সেই কমিটিতে প্রশাসনের প্রতিনিধি থেকে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।