
অশান্ত বাংলাদেশে ভেস্তে গেল রক তারকা জেমস ও তাঁর ব্যান্ডের অনুষ্ঠান। শুক্রবার ফরিদপুর বিদ্যালয়ের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জেমস ও তাঁর ব্যান্ডের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন এই কনসার্টে হামলা হয় বলে জানা গিয়েছে। আর যে কারণে জেমসের কনসার্ট বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন পড়ুয়াও। আয়োজকদের দাবি, হামলাকারীরা বহিরাগত। যদিও গায়ক জেমস সুস্থ আছেন। তাঁর কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি। শুক্রবারের এই ঘটনার পর প্রথম আলোর কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিল্পী।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, 'এটি সম্পূর্ণ আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা।' নগরবাউল ও জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়া ঠাকুর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'এ আয়োজনে অংশ নিতে সাড়ে সাতটায় ফরিদপুরে পৌঁছাই। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরেই জানতে পারি সেখানে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। আমরা তখন গেস্ট হাউসেই ছিলাম। রাত সাড়ে ১০টায় বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলে অনুষ্ঠান বাতিলের কথা আমাদের জানানো হয়। এরপর ঢাকায় চলে আসি।'
প্রথম আলোকে আয়োজকরা জানিয়েছেন যে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শুধু প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। কিন্তু কয়েক হাজার বহিরাগত দর্শক জেমসের অনুষ্ঠানের কথা শুনে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তাঁরা পাশের মুজিব সড়কে অবস্থান নেন। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষে বাইরে দুটি প্রজেক্টর লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে রাক ৯.৩০ মিনিটের দিকে বহিরাগতরা দেওয়াল বেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় স্কুল প্রাঙ্গণের দর্শক ও মঞ্চের দিকে একের পর এক ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বহিরাগতদের ছোঁড়া ইঁট-পাটকেলে স্কুলের ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়। জানা গিয়েছে, হামলা চালালেও শেষপর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে বাধা পেয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ওই আক্রমণকারীরা।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা থাকলেও হামলাকারীদের তাণ্ডবের পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তা বাতিল করতে হয়েছে। ভারতীয় পরিচালক অনুরাগ বসুর ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ চলচ্চিত্রে ‘আলবিদা’ গান গেয়েছিলেন জেমস। হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন তাঁর ভারতীয় ভক্তেরাও।