
Sheikh Hasina Son Speech: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক বিতর্ক উসকে দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। কলকাতায় আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পরিবর্তন কোনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং পরিকল্পিত সহিংসতা ও চরমপন্থী শক্তির মদতে তৈরি একটি ‘ম্যান্ডেটহীন শাসনব্যবস্থা’। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ছাত্র আন্দোলন, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান, মার্কিন ভূমিকা এবং ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগের প্রসঙ্গ।
জয় বলেন, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুতে পুরোপুরি ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ছিল। কিন্তু আওয়ামি লিগ সরকার সেই দাবিগুলি ছাত্রদের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েই বিরোধী শক্তি, ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা আন্দোলনের দখল নেয়। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ছড়ানো হয়, পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানো হয় এবং পরিস্থিতিকে রক্তাক্ত করে তোলা হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামি লিগ সরকার কোনওভাবেই প্রাণহানি চায়নি।
জয়ের অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই যে প্রথম কাজটি করেছে তা হল সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তি দেওয়া। যাদের আওয়ামি লিগ সরকার গ্রেফতার করে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়েছিল, তাদেরই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর পেছনে কারণ একটাই, এই শাসনব্যবস্থা ইসলামপন্থী ও চরমপন্থী শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যেই বলা হয়েছিল, পুলিশ হত্যা ও সহিংসতা ছাড়া ‘বিপ্লব’ সফল হবে না।
বাংলাদেশে বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত স্তব্ধ বলে অভিযোগ করেন জয়। তাঁর দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মিডিয়া ও বিরোধী কণ্ঠস্বরের উপর হামলা নামছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রথোম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে আগুন লাগানোর ঘটনার উল্লেখ করেন। জয় স্বীকার করেন, সংঘর্ষে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তবে একইসঙ্গে নিহত হয়েছেন আওয়ামি লিগের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরাও। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ৫ থেকে ১৫ আগস্ট। এই দশ দিনে, আওয়ামি লিগ ক্ষমতা ছাড়ার পরই শতাধিক মানুষ খুন হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিল দলীয় কর্মী ও আইনরক্ষী বাহিনীর সদস্য।
বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে জয় বলেন, আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় শুধু একটি দল নয়, কার্যত সমস্ত প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যত দুই ঘোড়ার দৌড়, বিএনপি ও জামাত। তাঁর দাবি, এটি কোনও সর্বদলীয় নির্বাচন নয়, বরং সাজানো নাটক। আন্তর্জাতিক মহল এখনই এই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা না করলে বাংলাদেশে একটি নিয়ন্ত্রিত সরকার চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন জয়। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ এফবিআইয়ের কাছেই রয়েছে, তবু মার্কিন প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং তারেককে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করা হচ্ছে। জয় দাবি করেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল করার জন্য সংবিধান বিরোধী গণভোটের ধারণাকে সমর্থন করছে আমেরিকা, যাতে ভবিষ্যতে কোনও শক্তিশালী একক সরকার গড়ে না ওঠে এবং দেশটি সবসময় নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে।
ভারতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জয় বলেন, জামাত ইসলামি শাসনব্যবস্থায় প্রভাবশালী হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পূর্ব সীমান্তে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই আল-কায়েদা, লস্কর-ই-তালিবান সংযুক্ত নেতারা প্রকাশ্যে সভা করছেন। পাকিস্তানও এই পরিস্থিতির সুযোগ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামি লিগের ১৭ বছরের শাসনকালেই সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে নিরাপদ ছিল এবং ভারতের সীমান্ত সবচেয়ে স্থিতিশীল ছিল।
শেষে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে আবেদন জানিয়ে জয় বলেন, এটি শেষ সুযোগ, বাংলাদেশকে কট্টরপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করার। আওয়ামি লিগ কোনওদিন হারিয়ে যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, দলের অন্তত ৪০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক আজও অটুট, কারণ আওয়ামি লিগই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও প্রগতির প্রতীক।