
এবার বাংলাদেশের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি করে ফেলল আমেরিকা। তাদের উপর ১৯ শতাংশ শুক্ল বসানো হয়েছে। আর ভারতের উপর রয়েছে ১৮ শতাংশ ট্যারিফ। যার সহজ অর্থ হল, এখনও বাণিজ্য যুদ্ধে এগিয়ে থাকবে ভারত। আমাদের দেশের পণ্যই আমেরিকায় সস্তায় বিক্রি হবে।
কী জানালেন ইউনূস?
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস এই ইতিমধ্যেই বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে বিশদে জানিয়েছেন। তাঁর কথায় উঠে এসেছে যে বাংলাদেশের উপর থেকে শুল্ক কমিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি কিছু পণ্যকে ডিউটি ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'আমেরিকার পণ্য দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের উপর শূন্য ট্যারিফ বসানো হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, ঢাকা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা চলছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ছিল। তবে নিয়মিত কথা বলে ঢাকা সেই রেট ২০ শতাংশ নামিয়ে আনতে পেরেছিল।
আর বর্তমানে তাঁরা বাণিজ্য চুক্তিতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এখন থেকে তাঁদের পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। আর টেক্সটাইল সেক্টরের বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক একবারেই তুলে নেওয়া হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই চুক্তি সম্পর্কে একটি সরকারি বিবৃতিও দিয়েছে ঢাকা। তাদের তরফ থেকে জানান হয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বাশির উদ্দিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমান এবং আমেরিকার তরফে রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রির এই চুক্তিতে সই করেন।
এই চুক্তির পর অন্তবর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসের প্রশংসা করেন গ্রির। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'এই চুক্তি আমেরিকার বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত করবে।' এরপর হোওয়াইট হাউজের তরফ থেকেও দেওয়া হয় বাণিজ্য বিবৃতি। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে দুই দেশই শুল্কের বাধা পেরিয়ে বাণিজ্য করতে ইচ্ছুক।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে গারমেন্টস শিল্পের উপর। দেশের রফতানি থেকে আমদানির ৮০ শতাংশই আসে বস্ত্র শিল্প থেকে। এখানে প্রচুর সাধারণ মানুষ কাজ করেন। আর সেই শিল্পকেই কিছুটা অক্সিজেন দিল আমেরিকা। তাঁরা এই শিল্পের কিছু পণ্যের উপর থেকে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নিল।
তার ফলে বাংলাদেশের গারমেন্টস ব্যবসা আবার প্রাণ খুঁজে পাবে। দীর্ঘদিন ধরে ধুকতে থাকা সংস্থাগুলি আবার আমেরিকায় ব্যবসা শুরু করতে পারবে। আর সেটা বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে অবশ্যই ভাল।
তবে মাথায় রাখতে হবে যে, এখনও বাংলাদেশের থেকে ভারতের উপর শুল্ক রয়েছে কম। তাই সার্বিকভাবে দেখতে গেলে এখনও ভারতীয় পণ্যই আমেরিকার বাজারে কম দামে বিক্রি হবে। আর এটাই ইউনূস সরকারে ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।