
A R Rahman Statement: বলিউডে পক্ষপাতিত্ব এবং কাজের সুযোগ কমে যাওয়া নিয়ে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে দেওয়া মন্তব্যের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এ. আর. রহমান। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বিতর্ক বেড়ে উঠতেই অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সংগীত পরিচালক। একটি স্পষ্টীকরণ বিবৃতি দিয়ে তিনি জানালেন, তাঁর মন, তাঁর অনুপ্রেরণা, তাঁর দেশ সবই ভারত। আর সেই ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তিনি বরাবরই সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
রহমান তাঁর বিবৃতিতে শেয়ার করেছেন একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, ক্রিকেট ম্যাচে তিনি ‘মা তুঝে সালাম/বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করছেন। এই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, “সংগীতই আমার সংযোগের পথ, উদযাপনের পথ, আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর পথ।” তাঁর কথায়, কিছু মন্তব্য ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নিজের সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে তিনি জানান, WAVES সামিটের ‘ঝালা’, ‘রূহ-এ-নূর’, নানা নাগা শিল্পীর সঙ্গে কাজ, সানশাইন অর্কেস্ট্রা, সিক্রেট মাউন্টেন ভার্চুয়াল ব্যান্ড, সবই তাঁর ভারতীয় শিকড় এবং বৈচিত্র্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। এমনকি রামায়ণের সঙ্গীতায়োজনেও কাজ করছেন তিনি, হান্স জিমারের সঙ্গে।
ঠিক কোথা থেকে তৈরি হল বিতর্ক? বিবিসি সাক্ষাৎকারে রহমান বলেছিলেন, গত আট বছরে বলিউডে তাঁর কাজের পরিমাণ কমেছে, কারণ সৃজনশীল মানুষের বদলে ক্ষমতা চলে গেছে অন্যদের হাতে। তিনি সরাসরি বৈষম্য দেখেননি বলেও জানান, তবে ইঙ্গিত করেন, কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্টতা কাজ করেছে সম্ভবত। ‘ছাভা’ ছবিকে ‘বিভাজনমূলক’ বলার মন্তব্যও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। তাঁর মতে, মানুষের বিবেক ঠিক পথ চিনে নেয়।
এই মন্তব্যের পর বলিউডের একাংশ নড়ে বসে। কঙ্গনা রানাউত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, রহমান ‘হেটফুল এবং প্রেজুডিসড’। তাঁর দাবি, ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির জন্য সভা চাইলেও নাকি রহমান দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন এবং তিনি ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়াচ্ছেন। জাভেদ আখতার, শান এবং শোভা দেও রহমানের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। শোভা দে জানান, বলিউডে সাম্প্রদায়িকতার হাওয়া নেই, বরং সৃজনশীলতার স্বাধীনতা রয়েছে, যা শিল্পীদের সম্মান দেয়।