
অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের বলিউডে কাজ না পাওয়ার কারণ ঘিরে বিতর্কে এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশি সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত তসলিমা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে। বলিউডে সাম্প্রাদায়িক ভেদাভেদ নিয়ে রহমান যে গুরুতর দাবি করেছেন, তার প্রেক্ষিতে তসলিমার বক্তব্য, 'আমি যতদূর জানি, বলিউডের অন্যান্য সব শিল্পীদের চেয়ে অনেক বেশি পারিশ্রমিক নেন এআর রহমান। ভারতে তিনি অত্যন্ত খ্যাতনামা। আসলে যাঁরা জনপ্রিয় ও ধনী, তাঁদের কোনও ক্ষেত্রেই কোনও রকম এই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় না।'
বলিউডে মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ এআর রহমানের
সম্প্রতি বিবিসি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে বলিউডে দীর্ঘদিন কাজ না-পাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করে এআর রহমান। তিনি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, তিনি মুসলিম হওয়ার জেরেই বলিউডে কাজ পাচ্ছেন না। বলেন, 'আগে এই ভেদাভেদের সম্মুখীন হইনি। কিন্তু গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদলে অনেক কিছু পরবির্তন দেখতে পাচ্ছি। যদিও বিষয়টি মুখের উপর আমাকে কেউ বলেননি, তবে কানাঘুষো এসব কথা আমার কাছে এসেছে। আন্তরিকতা দিয়েও যদি কাজ না আসে আমি আবার কারও কাছে গিয়ে নিজের তদবির করতে পারি না। কারও অফিসে গিয়ে বসে থাকতে পারব না।'
কঙ্গনা থেকে শান, রহমানের মন্তব্য তীব্র বিতর্ক
রহমানের এই মন্তব্যের পরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নানা মহলের নানা রকম টিপ্পনি চলছে। BJP সাংসদ কঙ্গনা রানাউত ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কঙ্গনা লেখেন, 'প্রিয় রহমানজি, আমি বিজেপিকে সমর্থন করি বলে ইন্ডাস্ট্রিতে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু আপনার মতো পক্ষপাতদুষ্ট ও ঘৃণ্য মানুষ আমি আর কাউকে দেখিনি।' আরেক গায়ক শান বলেন, '২৫ বছর ধরে আমি গান গাইছি। শ্রোতাদের ভালবাসা পেয়েছি। কিন্তু এমন বহু সময় এসেছে, যখন হাতে কাজ ছিল না। ধর্মীয় বিভাজনের কারণে আমার সঙ্গে অন্তত এমন কিছু কখনও ঘটেনি।'
জনপ্রিয় ও ধনীরা এই সব বাধার সম্মুখীন হন না: তসলিমা
তসলিমা আবার টানলেন শাহরুখ, সলমান, আমিরদের। এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে তসলিমা লেখেন, 'এআর রহমান অভিযোগ করছেন, উনি মুসলিম বলে বলিউডে কাজ পাচ্ছেন না। কিন্তু শাহরুখ খান এখনও বলিউডে বাদশা, সলমন খান, আমির খান, জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এঁরা সবাই সুপারস্টার। আসলে জনপ্রিয় ও ধনীরা এই সব বাধার সম্মুখীন হন না। আমার মতো গরিবদের এই ধরনের বাধা ঝেলতে হয়। কারণ আমার নামটি, মুসলিম নাম। আমাকে কেউ ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে চায় না। আমি ঔরঙ্গাবাদে পা রাখতে পারি না, নাস্তিক বলে আমাকে হায়দরাবাদে মার খেতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমায় তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সমস্যা এআর রহমানের জীবনের চৌহদ্দিতেও আসেনি কখনও।'
তাঁর বক্তব্য, 'ইসলামের অন্দরের গোঁড়ামি ও ফাঁপা রীতিনীতি ভেঙে আমি যেন নির্বাসিত জীবনে আছি। তবু মানুষ আমাকে বলে, তোমরা নাকি চাঁদ দেখে ঈদ পালন কর বা তোমাদের মধ্যে নাকি বহুবিবাহ চলে। এই দেশের সাধারণ মানুষ নাস্তিকতা সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক ও ধার্মিক, সবাই এ আর রহমানকে সম্মান করে। তাঁকে করুণার চোখে দেখানো একেবারেই ঠিক নয়।'