Advertisement

Bengali Film Industry Problems: রাহুলের মৃত্যুর পরে 'হাটে হাঁড়ি ভাঙল', টলিউডে কত সমস্যা? যা কিছু জানা জরুরি

অন্দরের ঠান্ডা লড়াই, কখনও ব্যান সংস্কৃতি আবার কখনও বা কারোর আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড়। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে। ছবি মুক্তি ঘিরে কখনও অশান্তি আবার কখনও বা ফেডারেশনের একাধিক নিয়ম-নীতির গেড়োঁয় পড়ে নাজেহাল অবস্থা শিল্পীদের। টলিপাড়ার অন্দরের এই কঙ্কালসার অবস্থা কবে ঠিক হবে তা জানা নেই কারোরই।

একাধিক সমস্যা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিরএকাধিক সমস্যা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 08 Apr 2026,
  • अपडेटेड 11:10 AM IST
  • টলিপাড়ার অন্দরের এই কঙ্কালসার অবস্থা কবে ঠিক হবে তা জানা নেই কারোরই।

অন্দরের ঠান্ডা লড়াই, কখনও ব্যান সংস্কৃতি আবার কখনও বা কারোর আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড়। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে। ছবি মুক্তি ঘিরে কখনও অশান্তি আবার কখনও বা ফেডারেশনের একাধিক নিয়ম-নীতির গেড়োঁয় পড়ে নাজেহাল অবস্থা শিল্পীদের। টলিপাড়ার অন্দরের এই কঙ্কালসার অবস্থা কবে ঠিক হবে তা জানা নেই কারোরই। চলতি বছরের প্রথম থেকেই শিরোনাম দখল করে নিয়েছে টলিউড। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ঠিক কী চলছে বাংলা ছবির অন্দরমহলে। 

ব্যান কালচার নিয়ে দেব-স্বরূপ বিশ্বাস দ্বন্দ্ব
বহুদিন ধরেই টলিউড সুপারস্টার তথা সাংসদ দেবের সঙ্গ স্বরূপ বিশ্বাসের ঠান্ডা লড়াই চলছে। ফেডারেশন সভাপতি ডানদিকে গেলে দেব যাবেন বাঁ দিকে। এটাই এতদিন ধরে হয়ে আসছিল। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যান কালচার সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বহু আগে থেকেই সরব হয়েছিলেন দেব। ফেডারেশনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বড়পর্দা থেকে দূরে সরে রয়েছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও ঋদ্ধি সেন। দুজনেই তুখোড় অভিনেতা। কিন্তু তাআর এ সত্ত্বেও তাঁদের জায়গা নেই বড়পর্দায়। আর তাঁদের ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দেব। যা নিয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে এই লড়াই। একাধিক সাক্ষাৎকারে দেবের বক্তব্যে উঠে এসেছে টলিউডের বহু আলোচিত ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতি ও ‘ব্যান কালচার’ বা নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতির প্রসঙ্গও। এমনকী ফেডারেশনকে ৭২ ঘণ্টা আগে না জানালে, ফেডারেশন সভাপতি শ্যুটিংও বন্ধ করে দেন। এইসব নানান বিষয় নিয়ে দেব ও স্বরূপ বিশ্বাসের মনোমালিন্য অনেকদিন আগে থেকেই চলছিল। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে দেব-স্বরূপ ঝামেলা
ফের শিরোনামে ফিরে এলেন দেব ও স্বরূপ বিশ্বাস। এবারের বিষয় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। টলিউডের সমস্ত টেকনিশিয়ানদের এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন দেব। টেকনিশিয়ান্সদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। দেবের সেই উদ্যোগে সায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। কিন্তু দেবের এই উদ্যোগে একেবারেই অখুশি ছিলেন ফেডারেশন সভাপতি। স্বরূপ বিশ্বাসের দাবি, ‘মেডিক্লেম বেনিফিট অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর সংস্কৃতি দফতর থেকে আমাদের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, আমরা যাঁদের এই মেডিকেল বেনিফিট দিতাম, তাঁদের যেন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করি। জবাবে ফেডারেশন জানতে চেয়েছিল, মেডিক্লেম বেনিফিটে যে বিশেষ সুযোগসুবিধা কলাকুশলীরা পান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করলেও কি তাঁরা একইরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন? টেকনিশিয়ানদের পরিবারের বেশির ভাগই আগে থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাধীন। তাই নতুন করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে, তা কতটা সাফল্য পাবে তা নিয়ে সংগঠন চিন্তিত। স্বরূপ বিশ্বাসকে পাল্টা দিতে ছাড়েন না দেবও। তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে বলেছিলেন, স্বরূপ বিশ্বাসের প্রশ্নের সবচেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারেন তাঁর বড় দাদা অরূপ বিশ্বাস। যিনি মন্ত্রী হিসেবে, সমানে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের গ্রামে গ্রামে প্রচার করেছেন। স্বরূপ বিশ্বাসের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প না হলেও তাঁর চলবে। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের এটা দরকার। 

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

কে এই স্বরূপ বিশ্বাস
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই হলেন স্বরূপ। যিনি দীর্ঘদিন ধরে টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের টেকনিশিয়ান ও শ্রমিকদের সংগঠন 'ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া' (FCTWEI)-এর সভাপতি পদে রয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রির খবর, টলিপাড়ার তাঁর দাদাগিরির চোটে অতিষ্ট একাধিক অভিনেতা, পরিচালক-প্রযোজকরা। ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি টলিউডের শুটিং ও টেকনিশিয়ানদের কাজে অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেন। যদিও বহুবার ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে টলিপাড়ার কলাকুশলী ও পরিচালক-প্রযোজকদের বাক-বিতণ্ডা সামনে এসেছে। ফেডারেশনের ভূমিকায় অখুশি হয়ে একাধিকবার কর্মবিরতিতেও গিয়েছে টলিপাড়া। তবে স্বরূপ বিশ্বাস বরাবরই নিজের মতের সঙ্গে আপোষ করেননি। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু
গত ২৯  মার্চ দিঘার তালসারিতে ভোলে বাবা পার করেগা শ্যুটিংয়ে গিয়ে সমুদ্রের জলে ডুবে মৃত্যু হয় জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-কে। গত বেশ কিছুদিন ধরে টলিপাড়া সরগরম হয়েছিল রাহুলের মৃত্যু কাণ্ড নিয়ে। ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক করা হয় রাহুলের মৃত্যু নিয়ে। রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর বিরুদ্ধে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে একটা স্বচ্ছ উত্তর চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায়, আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথমে রিজেন্ট পার্ক থানায় এবং রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা তালসারি কোস্টাল থানাতে গিয়ে এফআইআর দায়ের করে লীনা-শৈবাল সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

রাহুলের মৃত্যু ঘিরে সরগরম টলিপাড়া
অভিনেতা রাহুলের এই আকস্মিক মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না। টলিপাড়ায় তৈরি হয় শোকের আবহ। গত ৪ এপ্রিল শনিবার রাহুলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার চেয়ে পথে নামেন টলিপাড়ার একাধিক তারকারা। সকলেই চান রাহুল সঠিক বিচার পায়, তাঁর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হয়। এই সবের মাঝে থেমে ছিল না আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকও। দফায় দফায় তাঁদের আলোচনা চলছিল। এরপরই আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ৮ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতিতে যাবে ইন্ডাস্ট্রি। মঙ্গলবার সকাল থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধি লাঘু হওয়ার বৈঠকে একে একে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জড়ো হতে থাকেন টেলিভিশন ও বড়পর্দার তারকারা। চলে ম্যারাথন বৈঠক। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
মঙ্গলবার আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যে কোনও কর্মবিরতি থাকছে না তবে ইন্ডাস্ট্রির সকলের মিলিত সিদ্ধান্ত, 'ম্যাজিক মোমেন্টস'-র সঙ্গে কোনও শিল্পী কাজ করবেন না। আউটডোরে শুটিং চলাকালীন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে ইন্ডাস্ট্রির তারকা, টেকনিশিয়ানরা যেভাবে যৌথ পরিবারের মতো প্রয়াত অভিনেতার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বা ভবিষ্যতের কথা ভেবে অন্যান্য়দের নিরাপত্তার দাবিতে একজোট হয়েছেন, তা লক্ষণীয়।

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

ফের প্রকাশ্যে দেব ও স্বরূপ বিশ্বাসের ঠান্ডা লড়াই
এই সাংবাদিক বৈঠকে আচমকাই দেব মাইক নিয়ে ঘোষণা করেন যে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যান হওয়া অভিনেতাদের কাজে ফেরাতে হবে। এতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। দেবের মুখে ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার কথা শুনে ক্ষোভ আড়াল করতে পারেননি ফেডারেশন সভাপতি। তাঁর পাল্টা কটাক্ষ, “আজ দেব ‘থ্রেট কালচার’-এর কথা বলছেন। এটা আমরা করিনি, ওঁরা আমাদের থ্রেট করেছিলেন এবং ভয় দেখিয়েছিলেন, টেকনিশিয়ানদের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হবে। তাঁদের পথে বসানো হবে। সে ভাবেই কিন্তু মামলা সাজানো হয়েছিল।” এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন গত বছর ফেডারেশনের বিরুদ্ধে পরিচালকেরা রাজ্যের হাই কোর্টে যে মামলা দায়ের করেছিলেন তার কথা। তিনি আরও বলেন, “দেব টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন। টেকনিশিয়ানরা যে কাজ করেন, সেটাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। দেবকে অনুরোধ জানাব, হাই কোর্টে গিয়ে দয়া করে যেন দেখে আসেন মামলার কাগজপত্র। তা হলেই জানতে পারবেন, সেখানে টেকনিশিয়ানদের কাজকে খর্ব করার জন্য, টেকনিশিয়ানদের অসুবিধায় ফেলার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল!স্বরূপের আক্ষেপ, সে দিন দেব যদি এগিয়ে এসে পরিচালকদের বলতেন, এ ভাবে মামলা দায়ের করা ঠিক হচ্ছে না, তা হলে টেকনিশিয়ানরা খুশি হতেন।

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

দেবের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা
মিটিং থেকে ফিরেই সোশাল মিডিয়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর জন্য আগামী ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিলেন টলিউড সুপারস্টার। পোস্টে উল্লেখ, 'আমরা সকলে মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছি।' যদিও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন যে যে সমস্ত পরিচালক, অভিনেতা এই ‘সংস্কৃতি’র কারণে দীর্ঘ দিন বসে রয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাজে ফেরাবেন তিনি।

এই সব ঘটনা ঘিরে বছরের শুরু থেকেই খবরের শিরোনাম দখল করে আসে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি। দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাস, ব্যান সংস্কৃতি, কলা-কুশলীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত, লীনা-শৈবালের প্রযোজনা সংস্থা নিষিদ্ধ, এই সব ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যতটা বাইরে থেকে চাকচিক্য়ে ভরা, গ্ল্যামার ও ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকানি, ততটাই পচন ধরে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেও। বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান এই ট্যাগলাইন যতই থাকুক, ভেতরকার চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সেখানে কেউ কারোর পাশে যে নেই, সেই চিত্রই বারংবার ধরা পড়ে। 
    
 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement