
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ায় চাপা গুঞ্জন ছিল যে তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কারণ গত বছর থেকেই পরমকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক অনুষ্ঠানে অভিনেতার উপস্থিতি যেমন নজরে এসেছে, তেমনি পরম-পিয়ার একমাত্র ছেলে নিষাদের অন্নপ্রাশনেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে আশীর্বাদ করে গিয়েছেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কদিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে এবারের ভোটে দাঁডাতে পারেন পরম। জোরালো জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তৃণমূলের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সেই জল্পনায় জল পড়ল। ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না অভিনেতা। বরং ছেলে নডিকে নিয়ে বেজায় ব্যস্ত এখন তিনি। তারই ঝলক মিলল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।
গত বছর জুনে বাবা হয়েছেন পরমব্রত। তাঁর জীবনের প্রথম এবং নতুন এক অভিজ্ঞতা, তা একাধিকবার তিনি বলেছেন। কাজের ব্যস্ততার মাঝেই পরমব্রত ছেলে নডিকে সময় দিতে একেবারেই ভোলেন না। ছেলে অন্ত প্রাণ বাবার। এবার শ্যুটিং ফ্লোরে নিয়ে এলেন ছেলেকে। কাজের ফাঁকেই চলল ড্যাডি টাইম। কানে মস্ত বড় হেডফোন লাগিয়ে পরমের চোখ স্ক্রিনের দিকে আর ছেলেও বাবার কোলে বসে একদৃষ্টে সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পরমব্রত ক্যাপশনে লেখেন, কাজের জায়গায় সন্তানকে নিয়ে আসার দিন।
এই ছবির কমেন্টে পিয়া লিখেছেন, আমার জীবনের দুই পুরুষ। পিয়া প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর থেকেই পরমব্রত যতটা পেরেছেন স্ত্রীকে সময় দিতে চেষ্টা করেছেন। ছেলে হওয়ার পরও তিনি অভিনয় ও পরিচালনার কাজ থেকে বিরতি নিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পিয়া নিজেই জানিয়েছেন যে ছেলের দায়িত্ব পরমই পালন করেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তা স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। ফেডারেশনের সঙ্গে সব মতভেদ ঘুচিয়ে আবারও কাজে ফিরেছেন পরমব্রত। তাঁকে সেই চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নাম থাকার পরও তৃণমূলের টিকিট পাননি পরমব্রত। যদিও জোর জল্পনা ছিল তাঁর প্রার্থী হওয়ার। আপাতত কাজের দিকেই মনোযোগ দিতে চান পরম। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানকেও সময় দিচ্ছেন কাজের ব্যস্ততার মাঝেই।