
রবিবার দিঘার তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার এমন আকস্মিক প্রয়াণে টলিপাড়া শোকস্তব্ধ। ধারাবাহিক 'ভোলেবাবা পার করেগা' শ্যুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাহুলের জলে ডুবে মৃত্যু অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে। ভোলে বাবা পার করেগার ব্যাঙ্কিং করা পর্বগুলি দেখানো হলেও, নতুন করে এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং শুরু হয়েছে কি?
টেলি ইন্ডাস্ট্রির সূত্রের খবর, ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই সিরিয়ালের শ্যুটিং বন্ধ রয়েছে। মুভিটন স্টুডিওতে রাহুল-শ্বেতার ভোলেবাবা পার করেগার শ্যুটিং হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কেউ শ্যুটিংয়ে আসেনি। দেখা যায়নি কোনও টেকনিশিয়ান বা কলাকুশলীকে। ইতিমধ্যে টালিগঞ্জের একাংশ পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে। অনেকে আবার চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজনা সংস্থার তরফে রাহুলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি তুলেছেন। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি স্পটে ছিলেন না। পুলিশি তদন্ত চলছে, তাই এই মুহূর্তে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ।
সোমবার টেলিকাস্ট হয়েছে এই ধারাবাহিকের একটি পর্ব। মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত সম্প্রচার হতে পারে। তবে শ্যুটিং যদি শুরু না হয়, তবে নতুন কোনও পর্ব দেখানো যাবে না। কারণ ধারাবাহিকের দু'তিনদিনের বেশি এপিসোড ব্যাঙ্কিং থাকে না, বলেই জানিয়েছেন এই ধারাবাহিকের অন্যতম অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ের জন্য তালসারিতে গিয়েছিল গোটা টিম। সেখানে হানিমুনের দৃশ্য শ্যুট হওয়ার কথা ছিল। কিছুটা শ্যুটিংও হয়েছে রাহুল ও শ্বেতা মিশ্রদের নিয়ে। এরপরই জলে নেমে শ্যুটিং করতে গিয়েই সেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাহুলের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে যে অভিনেতার ফুসফুসে প্রচুর জল ও বালি পাওয়া গিয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ জলে থাকার ফলে হয়েছে।
এরই মধ্যে দর্শকমহলে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ কি তবে অসমাপ্তই থেকে যাবে? অনেক দর্শক তাঁদের প্রিয় অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় যতটুকু শুটিং সম্পন্ন করেছেন, ততটাই সম্প্রচার করা হোক। তাহলে কি ভোলেবাবা পার করেগা ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে? প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কিছুই জানা যায়নি এই নিয়ে।