
দর্শকদের উদ্দেশ্যে সর্বদাই একটা কথা বলা হয় যে বাংলা সিনেমার পাশে এসে দাঁড়ান। অথচ বাংলা ছবির অন্দরমহলেই এত ঝহড়া-কলহ, যে সেটা কবে মিটবে তার কোনও ঠিক নেই। ক্যামেরার সামনে সকলেই হাসিমুখে পোজ দিয়ে ছবি তুললেও, ভেতরে ভেতরে কিন্তু একে-অপরকে দেখতেও পারে না। এমনিতেই ফেডারেশন বনাম দেবের লড়াই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এবার স্ক্রিনিং কমিটি তথা ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের সঙ্গে প্রযোজক রানা সরকারের ঠান্ডা লড়াই সামনে এল। গত বেশ কিছুদিন ধরেই স্ক্রিনিং কমিটির বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলছেন রানা সরকার। শুধু তাই নয়, ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধেও এনেছেন গুরুতর সব অভিযোগ। এবার সেই নিয়েই প্রযোজককে পাল্টা দিলেন পিয়া সেনগুপ্ত।
বেশ কিছুদিন আগে রানা সরকার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ আনেন। যেখানে প্রযোজক লেখেন, 'স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পিয়া সেনগুপ্ত সাম্প্রতিক অতীতে যা যা পক্ষপাতিত্ব করেছেন, সেটাকেও তীব্র ধিক্কার জানাবো নাকি ইগনোর করে দেব? যেভাবে দেবকে অপমান করা হয়েছে খুলে বলবো? নাকি ইগনোর করব। এরপরই রানা পিয়ার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ করে লেখেন, যেভাবে নিজের ছেলের সিনেমা চালানোর জন্য সিনেমা হল মাবিকদের থ্রেট করছেন সেটা বলবো? নাকি ইগনোর করব? স্ক্রিনিং কমিটির ভেতরের কথা বাইরে প্রকাশ করে দিচ্ছে তার দায় স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্টের সেটাকে কি ধিক্কার জানাবো না ইগনোর করবো?' এই ধরনের নানান অভিযোগ গত কয়েকদিন ধরেই রানা সরকার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে করে চলেছেন। এবার তারই পাল্টা জবাব দিলেন পিয়া।
এক অনুষ্ঠানে গিয়ে পিয়া এ সংক্রান্ত বিষয় সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানার পর বলেন, 'আমি তোমাদের কাছ থেকেই এই বিষয়গুলি জানছি। কে কী বলছে তাতে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিই না। কারণ এখন আমার তো গণ্ডারের চামড়া হয়ে গেছে তো। আমার কাছে সব খবরগুলো যখন মুড়ির ঠোঙা হয়ে যায় তখন আসে।' পিয়া এরপর বলেন, 'এই পোস্টগুলি যেই করে থাকুক, আমার মনে হয় যখন আমাদের স্ক্রিনিং কমিটির সিদ্ধান্ত হয় যে ডিসেম্বর মাসে ছবি পিছিয়ে যাবে, আমি যদি বনির জন্য কোনও হলকে বা হলের মালিককে বলেই থাকি, তাহলে ডিসেম্বরে যখন পাঁচখানা ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়, সেখানে কিন্তু বনির ছবি ভানুপ্রিয়া ভাতের হোটেল ছিল, সেক্ষেত্রে সবার আগে কিন্তু কোপ পড়ে বনির ছবিতেই। আমি কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে শিবুকে অনুরোধ করি ডিসেম্বর থেকে এই ছবি পিছিয়ে নিয়ে গিয়ে জানুয়ারিতে যাও।' এরপরই ইমপা সভাপতি জানান যে এর অর্থই হল বনির ছবিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি কাউকে জোর করিনি বা চাপ দিইনি। তাহলে তাঁর ছেলের ছবি ২৫ ডিসেম্বরই আসত। সেটা ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেত না।
পিয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন যে হল মালিকদের ফোন করে জিজ্ঞাসা করা হোক তাঁরা কোনও হুমকি পেয়েছেন কিনা। প্রসঙ্গত, পিয়ার ছেলে বনির ছবি ভানুপ্রিয়া ভাতের হোটেল মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০২৫-এর ডিসেম্বরে কিন্তু পরে তা পিছিয়ে জানুয়ারিতে করে দেওয়া হয়। ১১ মার্চ ছিল টলিউডে স্ক্রিনিং কমিটির মিটিং। বাংলার কিছু সিনেমা হল মালিক ব্যবসায় ক্ষতির কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন স্ক্রিনিং কমিটিকে। এই সমস্যার সমাধান সূত্র খোঁজা হবে, এমন জানিয়ে মিটিং ডাকা হয়েছিল। মিটিং শেষে সাংবাদিক বৈঠকে স্ক্রিনিং কমিটির তরফে ধিক্কার জানানো হয়, স্ক্রিনিং কমিটিরই সদস্য রানা সরকারকে। এর কারণ রানার একটা ফেসবুক পোস্ট। যেখানে সিনেমা হল মালিকদের যে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে, তার কারণ প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি চালানো বাধ্যতামূলক তা নয়, বরং এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে, উল্লেখ করেছিলেন রানা। ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত নিজে মুখে রানাকে ধিক্কার জানান।