
হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে FIR দায়ের করলেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তার আগে অবশ্য হিরণের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন খোদ ঋতিকা। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, 'বিয়ে বেআইনি হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক'। থানায় এসে পাল্টা তাঁকে হুঁশিয়ারি দিলেন অনিন্দিতাও। এ যেন ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। BJP-র তারকা বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলেছে জোর চর্চা। এর মাঝেই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন হিরণের মেয়ে নিয়াসা।
১৯ বছর বয়সী নিয়াসার দাবি, '২০২৪ সালে ঋতিকা গিরি নিজে একদিন আমায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। প্রথমে আমায় মিসড কল দেয়, তারপর মেসেজ করে। আমায় বলেছিল, তুমি খুশি থাক, আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি।' মা ও মেয়ের দাবি, এই ঘটনা ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বরের আগেই ঘটেছে। তারপর থেকে হিরণ তাঁদের সঙ্গে থেকেছেন টানা ৫ মাস। খড়গপুর থেকে চলে এসেছিলেন কলকাতার আর্বানা আবাসনে।
ঋতিকা গিরি অবশ্য নিজের করা পোস্টে এই ৯ নভেম্বরের দিনটিই উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছিলেন, '২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিরণ নিজের মেয়ের সঙ্গে ছিল। কিছু ব্যক্তিগত কাজের জন্য হিরণ ওদের সঙ্গে ছিল। তার মধ্যেই ওর মেয়ের জন্মদিন পড়েছিল।' এদিকে, বিধায়কের প্রথম স্ত্রীর দাবি, 'গত ৫ বছর থেকে যে ওরা একসঙ্গে আছে বলে দাবি করছে, ২০২১ সালে তো এই সময়ে ঋতিকা গিরিকে হিরণ চিনতই না। কারণ সে সময়ে তো হিরণ তখনও ভোটে প্রার্থীই হয়নি। আর ২০২৪ সালে তো হিরণ খড়দপুর থেকে পালিয়ে এসেছিল ঋতিকা গিরির ভয়ে। বলেছিল ওকে মেয়েটা ব্ল্যাকমেল করছে।' হিরণের মেয়েরও দাবি, তাঁর কাছে বাবার লেখা মেসেজের একাধিক স্ক্রিনশট রয়েছে, যেখানে প্রমাণ হয় ঋতিকা তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছিল। এখানেই শেষ নয়, প্রথম স্ত্রী ও মেয়ে জানিয়েছেন, হিরণ খড়গপুর থেকে পালিয়ে ব্যাঙ্কক গিয়েছিলেন, তাঁদেরও টিকিট কেটে চলে আসতে বলেছিলেন। অনিন্দিতা বলেন, 'আমি আর আমার মেয়ে খুব বোকা, আমরাও টিকিট কেটে ব্যাঙ্কক চলে গিয়েছিলাম হিরণের কথায়। যদিও আমরা সেখানে ঘুরেছি, মেয়ের জন্মদিন পালন করেছি। সেই সব ছবি আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে।'
অনিন্দিতার হুঁশিয়ারি, 'ওই টুকু একটা মেয়ে, তার এত সাহস হয় কীকরে? বয়স নিয়ে যদি আমার দাবি মিথ্যে হয় তাহলে বার্থ সার্টিফিকেট দেখিয়ে প্রমাণ করুক। ও কী বোঝে সংসারের! আমি ২৫ বছর সংসার করেছি। ও যদি মনে করে ভিয়েতনামে ঘুরে বেড়িয়ে সিঁদুর পরলেই বিয়ে হয়ে যায়, সংসার হয়ে যায়, তাহলে আমিও দেখব হিরণ চ্যাটার্জি ওকে বিয়ে করে সংসার করে কি না। আমায় ডিভোর্স দিয়ে দিক, তারপর হিরণ যা খুশি করুক।'