
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। কোন দল থেকে কারা কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মাঝে উত্তরপাড়ার আসন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, বিধায়ক হিসাবে কাঞ্চনের কাজে নাকি একেবারেই খুশি নন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, তাই উত্তরপাড়ার আসন থেকে এবার অন্য মুখকে দেখা যেতে পারে। আর এই নিয়ে bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন খোদ TMC বিধায়ক কাঞ্চন।
২০২১ সালে উত্তরপাড়ার বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা বেশ তুঙ্গে। বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে শ্রীময়ীর পরকীয়া নিয়ে সেই সময় থেকে কম আলোচনা হয়নি। টলিপাড়া থেকে রাজনীতির অন্দর, সব জায়গাতেই এর ভাল মতো প্রভাব পড়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারেও ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব বেশ ভালরকম দেখা গিয়েছিল। তাই এই বছর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে তিনি আদৌও টিকিট পাচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
কাঞ্চন এ প্রসঙ্গে বলেন যে টিকিট পাওয়ার জন্য তিনি কখনই লালায়িত ছিলেন না। তিনি বলেন যে প্রথমবারও টিকিট পাওয়ার জন্য তিনি কখনও কিছু বলেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই কাঞ্চন মল্লিক ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিনেতা-বিধায়ক এও বলেন যে তৃণমূল কংগ্রেস কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। তাই দল বা শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি মাথা পেতে তা মেনে নেবেন। কাঞ্চন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে দল।
উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চনের কাজ নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ওখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিধায়ক হিসাবে তিনি কোনও কাজই করেনননি গত ৫ বছরে। এলাকার উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। কাঞ্চন এ প্রসঙ্গে বলেন, যাঁরা অভিযোগ করছেন, এই প্রশ্ন তাঁদেরকেই করা হোক। খুব শীঘ্রই তিনি গত পাঁচ বছরের কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন। তাঁর দাবি, সেই তালিকা থেকেই প্রমাণ হবে তিনি উত্তরপাড়ার জন্য আসলে কতটা কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কাঞ্চন মল্লিক অভিনয় পেশাও সমান দক্ষতার সঙ্গে সামলে চলেছেন। তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারের ব্যস্ততা একেবারেই কমেনি। একাধিক ছবি-সিরিজের কাজ চলছে। জানা যাচ্ছে, আগামী মার্চ মাস জুড়েই তিনি পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর নতুন ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তাই তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে এই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।