Advertisement

Loho Gouranger Naam Rey Review: মহাপ্রভুর জীবনকথা কতটা দেখাতে পারলেন সৃজিত? 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'-এর Review

Lawho Gouranger Naam Rey Review: সবাই যে পথে চলেন, সেই একই পথে চলতে একেবারেই রাজি নন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর সাফল্য যে উল্টো পথ ধরেই আসে, এটা তিনি এত বছরে বেশ ভালই বুঝে গিয়েছেন। 'এক যে ছিল রাজা' কিংবা 'গুমনামী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যে অন্তর্ধান সিরিজের শুরু করেছিলেন, তা 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'-ছবিতে চৈতন্য অন্তর্ধান দিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করলেন।

লহ গৌরাঙ্গের নাম রে কেমন হল?লহ গৌরাঙ্গের নাম রে কেমন হল?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 29 Dec 2025,
  • अपडेटेड 4:58 PM IST
  • সবাই যে পথে চলেন, সেই একই পথে চলতে একেবারেই রাজি নন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

সবাই যে পথে চলেন, সেই একই পথে চলতে একেবারেই রাজি নন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর সাফল্য যে উল্টো পথ ধরেই আসে, এটা তিনি এত বছরে বেশ ভালই বুঝে গিয়েছেন। 'এক যে ছিল রাজা' কিংবা 'গুমনামী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যে অন্তর্ধান সিরিজের শুরু করেছিলেন, তা 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'-ছবিতে চৈতন্য অন্তর্ধান দিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করলেন। সৃজিতের 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে' ছবির ঘোষণা বহুকাল আগে হলেও, একাধিক তারকার রদ-বদল ঘটার পর চূড়ান্ত বিষয়টি সামনে আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে যেটা এল সেটা একেবারে হেলাফেলার জিনিস নয়। চৈতন্য অন্তর্ধানের বিষয়টি এই ছবির মূল ফোকাস হলেও, সৃজিত তাঁর ছবিতে বেশি করে দেখাতে চেয়েছেন ভালোবাসা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে। 

ছবি সৌজন্যে: ইনস্টাগ্রাম

এই বিশ্বে জগন্নাথের ইচ্ছা ব্যতীত কোনও কিছুই সম্ভব নয়। ভক্তকে প্রাণ দিয়ে আগলে রাখাই বোধহয় জগন্না দেবের প্রধান কাজ। আর তাই তো মানুষ তাঁর দর্শন পেতে পুরী ধামের প্রাঙ্গনে ভিড় জমান। আর তাঁর সবথেকে প্রিয় যে ভক্ত - যিনি তাঁকে এক পলক না দেখলেও মনের মণিকোঠায় তাঁকে স্থান দিয়েছেন প্রতিটি প্রহরের নানা মুহূর্তে, সেই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাখেলা এবং বিশেষ করে তাঁর অন্তর্ধান নিয়েই সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন পরিবেশন ' লহ গৌরাঙ্গের নাম রে..'। সৃজিত এখানে একই সূত্রে চৈতন্যদেব, বিনোদিনী ও বর্তমানের পার্থ এবং রাইকে গাঁথার চেষ্টা করেছেন। 

চৈতন্য অন্তর্ধান নিয়ে নানা থিওরি উঠে এসেছে একাধিক সময়ে। কেউ বলে, চৈতন্যদেবকে খুন করা হয়েছে রাজন বিদ্যাপতির নির্দেশে, কেউ বলেন তিনি শ্রী জগন্নাথের মাঝেই বিলীন হয়েছেন, আবার কেউ বলেন, তিনি নাকি নিজেই হরে কৃষ্ণ নামে সমুদ্র মিলিয়ে গিয়েছেন। এগুলো থিওরি নাকি মিথ্যে তার কোনও সঠিক দিশা মেলেনি। পরিচালক নিজেও তার ছবিতে এই থিওরির বাইরে বের হতে পারেননি। নদের নিমাই, নবদ্বীপ ধাম থেকে ঈশ্বরপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন শ্রী ধাম পুরীতে। সেখানে দীর্ঘকালীন গম্ভীরা ভবনে ছিল তাঁর বাস। তিনি কৃষ্ণনামে বিলীন হয়ে যেতেই চেয়েছিলেন এবং চেয়েছিলেন যেন প্রেম ছড়িয়ে পড়ে মানুষ জাতির মধ্যে। 

Advertisement
ছবি সংগৃহীত

পরিচালক এই ছবিকে তিনটে সাব প্লটে ভাগ করেছেন। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কালীন, দ্বিতীয় যখন গিরিশ ঘোষ এবং নটি বিনোদিনী একের পর এক তাঁর লীলাখেলা নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করছেন, এবং তৃতীয় বর্তমান সময়ে, যেখানে রাই ( ইশা ) এবং পার্থ ( ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ) তাঁদের নতুন ছবি যা মহাপ্রভুকে নিয়েই, তাঁর শ্যুটিং করছেন। আর এই তিন সময়কালের চরিত্ররা কোনও না কোনও সময়ে পুরী পৌঁছে গিয়েছেন। বলতে বাধা নেই, এই ছবি বুঝতে গেলে একটু ইতিহাস জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অন্তত চরিত্র ও ঘটনাবলী সম্পর্কে সম্যক ধারণা। তাই হয়তো 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ' নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে থেকে যেতে পারে। খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এই ছবির চিত্রনাট্যে পার্থ (ইন্দ্রনীল) ও চৈতন্যর (দিব্যজ্যোতি) ভালবাসাকে জোড়া হয়েছে। ভাগ্যের করুণ পরিণতিতে জুড়ে গিয়েছেন রাই (ইশা) ও বিনোদিনী (শুভশ্রী)। এবং চৈতন্যকে নিয়ে গবেষকদের পরিণতি নিয়ে তৈরি মিথও উস্কে দিতে পারে ছবিটির ক্লাইম্যাক্স। তবে যে জিনিসটি দেখার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়ার কথা, সেই চৈতন্য মৃত্যু রহস্য নিয়ে পরিচালক খানিক সেফ খেলেছেন। হয়তো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কথা মাথায় রেখে। কোনও নির্দিষ্ট সমাধানের কথা বলেননি। 

যীশু সেনগুপ্তর 'নিত্যানন্দ' চরিত্রটি যেমন। বেশ সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ শেষ হয়ে গেল। বলতে গেলে, লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ছবিটির সমস্যা এটাই। ৫০০ বছরের একটি দীর্ঘ সময় কাল জুড়ে ছবির আখ্যান ঘোরাফেরা করে। কিন্তু তিনটি সময়কালে কোনওটিই কোনওটির সঙ্গে সেভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে না। জাতিস্মর এ যেটা সাবলীল ভাবে হয়েছিল। দিব্যজ্যোতি, শ্রী মহাপ্রভুর ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টায় ভালভাবেই পাশ করেছেন। নটি বিনোদিনী হিসেবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় বেশ ভাল। তাঁকে বাহবা দিতেই হয়। অভিনয়ে খামতি না থাকলেও দৃশ্যপট বেশ দুর্বল। জাতিস্মর বা গুমনামীর মতো এই ছবির বাঁধন খুবই আলগা।  সংগীত এই ছবির সম্পদ। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সুরে জয়তী চক্রবর্তী ও পদ্ম পলাশ যে গানগুলি গেয়েছেন, তা অনবদ্য। অরিজিতের গানটির তো তুলনা নেই। ছবির আবহসংগীত গল্পকে অনেকাংশে এগিয়ে দিয়েছে।  

Read more!
Advertisement
Advertisement