Advertisement

Pratikur Rahaman Row: প্রতীক উরের দলবদলে সংকটে CPM? যা বলছেন সৌরভ-বাদশারা

আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসের দিনই মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর দল ছাড়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন এই প্রতীক-উর। আর তার দুবছর বাদে সেই অভিষেকের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা নিলেন বহিষ্কৃত বাম নেতা।

তৃণমূলে প্রতীক উর, কী বলছেন তারকারা?তৃণমূলে প্রতীক উর, কী বলছেন তারকারা?
মৌমিতা ভট্টাচার্য
  • কলকাতা,
  • 22 Feb 2026,
  • अपडेटेड 4:24 PM IST
  • আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসের দিনই মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান।

আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসের দিনই মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর দল ছাড়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন এই প্রতীক-উর। আর তার দুবছর বাদে সেই অভিষেকের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা নিলেন বহিষ্কৃত বাম নেতা। প্রতীক উরের এই দল ছাড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাম সমর্থক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। bangla.aajtak.in-কে প্রতিক্রিয়া দিলেন চন্দন সেন, বাদশা মৈত্র, সৌরভ পালোধি, ঊষসীরা। 

চন্দন সেন (অভিনেতা)
বাংলা থিয়েটার জগতের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম মুখ চন্দন সেন। মঞ্চাভিনয়ে তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি এবং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার দক্ষতা বহু দর্শকের মন জয় করেছে দীর্ঘদিন ধরেই। বাণিজ্যিক তারকাখ্যাতির ঝলকানি থেকে খানিকটা দূরে থেকেও তিনি নিজস্ব অভিনয় দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন আলাদা মর্যাদা। গুণী অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি চন্দন সেনও মানবিকতা ও সরল জীবনদর্শনের জন্য শিল্পীমহলে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়। সেই অভিনেতা চন্দন সেন প্রথমেই জানিয়ে দিলেন যে তিনি প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়াই দিতে চান না। এই ঘটনায় তিনি এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে এই মুহূর্তে এটা নিয়ে কোনও কথাই তিনি বলবেন না। যদিও অভিনেতার গলা শুনে বোঝাই যাচ্ছিল যে প্রতীক উরের দল বদলের ঘটনাকে মোটেও ভাল নজরে দেখছেন না তিনি।

সৌরভ পালোধি (পরিচালক)
'আমি তো দলের কেউ নই, শুধুমাত্র সমর্থক একজন। প্রতীক উরের দল ছাড়ার ঘটনাকে একেবারেই ভালভাবে দেখছি না। এটা খুবই কষ্টের। এই প্রতীক উরকে খুবই স্নেহ করতাম, ভালোবাসতাম। ওঁর ত্যাগ, লড়াই, ওকে জানি বলেই আরও বেশি করে শ্রদ্ধা করতাম। ওঁর উঠে আসা, ওঁর সংগ্রাম, সবটা। প্রতীক উর যে খুব বিশেষ সুবিধা নিয়ে রাজনীতি করেছে তা নয়, কিন্তু যেটা ঘটালো এবং কয়েকটা রাতের মধ্যে ওঁর সব কথা উল্টো হয়ে গেল, এটা খুবই কষ্টের এবং এই প্রতীক উরকে তো আমি পছন্দ করি না। আমার কাছে রাজনৈতিক অবস্থানটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব কাছের বন্ধু হোক কিংবা পরিবার-পরিজন হোক, তাঁরও যদি রাজনৈতিক অবস্থান বদলায়, সে আমার দূরেরই হবে। আমি তো আর তাঁর রাজনীতির পক্ষে নেই এখন। আমি ওঁর রাজনীতির পক্ষে ছিলাম, কারণ প্রতীক উর সক্রিয় রাজনীতিটা করত, আমি তো অনেক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বসবাস করি অনেকটাই। ওঁর লড়াইয়ে থাকতাম সঙ্গে, ওঁর কথাগুলো ঠিক মনে হত। কিন্তু আর সেটা ঠিক মনে হবে না, রাতারাতি নিজের বলা কথাগুলোকেই বলছে ভুল ছিল। রাগ-অভিমান তো হয়ই, কিন্তু খুব কাছের কেউ এরকম ঘটালে কষ্ট হয়। আমি কষ্ট পেয়েছি। অসুবিধা নেই, এটাই রাজনীতি। তৃণমূলেরও একটা পরিষ্কার পরিচয় লাভের জন্য সিপিএমের দিকেই হাত বাড়াতে হয়। কারণ এর আগে বহু দল বদল ঘটেছে, সিপিএমে তো কেউ আসে না, ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা অনেক ঘটেছে। কিন্তু এই চর্চাটা বহু বছর পর একটা নীতি-আদর্শের চর্চার দিকে গেল।' সৌরভ আরও বলেন, 'কেউ যখন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যায় বা বিজেপি থেকে তৃণমূলে যায়, আমরা এককথায় ধান্দাবাজ বলি। কিন্তু এই যে নীতি-নৈতিকতার যে জায়গাটা উঠে এল, যেটা প্রতীক উরই তৈরি করেছিল। নিজের জায়গা সিপিএমে, এসএফআই করা, সেটা নষ্ট করে দিল। আমাদের চোখে যে প্রতীক উরের শ্রেষ্ঠত্বর জায়গাটা ছিল, আমার কাছে তা আর নেই। আমার কাছে রাজনৈতিক পরিচয়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' 'অঙ্ক কি কঠিন' পরিচালক বলেন, 'রাতারাতি এই পথ বদলের কারণ বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। ও মনে করেছে ওর যাওয়া প্রয়োজন, জানি না কী কারণ, কী চুক্তি, বৃত্তান্ত, কিছুই জানি না। আমি সত্যি কথা বলছি কিছু জানতেও চাই না। কোনও কারণ হবে কেন আমাকে আমার রাজনীতি ছেড়ে বেরোতে হবে। আমার অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকবেই, যেমন একটা পরিবারে থাকে, রাজনৈতিক সংগঠনেও থাকবে। যাঁরা দলের কিছু পছন্দ হচ্ছে না বা দলের আমাকে পছন্দ হচ্ছে না বলে বেড়িয়ে যায়, তাঁকে সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না। বরঞ্চ যে এসে আলোচনা করে, থেকে সমাধানের চেষ্টা করে সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীক উর সিপিএম হয়েছিল মহম্মদ সেলিমকে দেখে, তা তো নয়। একটা আদর্শকে দেখে সিপিএম হয়েছিল। সেই আদর্শ কী করে মিথ্যে হয়ে যেতে পারে। আমিও সিপিএম সমর্থক তার ঠিক-ভুল, আদর্শ নিয়েই। তোমার রাগ হলে তুমি বসে যেতে পারতে, কী করে তুমি বিপরীত শত্রু শিবিরে যোগ দিতে পার, তারা পিটিয়ে ফেলে রেখে গিয়েছিল, তোমার পরিবারের ওপর রাগ হল আর তুমি যারা পিটিয়েছিল, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিলে? গতে পারে কখনও?' 

Advertisement

বাদশা মৈত্র (অভিনেতা)
'প্রতীক উরের নির্বাচনী সভাতে আমি গিয়েছিলাম বাম সমর্থক হিসাবে, পার্টি কর্মী হিসাবে নয়। বাম সমর্থক হিসাবে। প্রতীক উরের প্রতি যে আবেগ ভালোবাসা ছিল, সেখান থেকে গিয়েছি তো, এটা অনেকেই বলেছেন যে খুবই হতাশাজনক পরিস্থিতি। আমারও হতাশ লেগেছে। তবে যেটা সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে, সেটা হল আমি সব সময় বলে থাকি তরুণ-তরুণীদের আরও এগিয়ে আসা উচিত, তাদের বেশি করে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, তারাই মুখ হওয়া উচিত, এটা সব সময়ই বলে থাকি, যেখানে আমার বলার ক্ষেত্র আছে। সেখানে এরকম ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে এটা বলার জায়গাটা আর থাকে না। তখন এই উদাহরণগুলো উঠে আসে এত অল্প বয়সে যে রাজ্য কমিটি, এত এত কমিটিতে থাকে এবং একটা মুখ হয়ে দাঁড়ায়, সে যদি এই ঘটনা ঘটাতে পারে, তাহলে যে কেউ ঘটাতে পারে। তাহলে অনেকগুলো নতুন প্রজন্মের লড়াই, সমাজের সামনে একটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায়। সেটা একটা বড় ক্ষতি। এছাড়া ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। ওর দলের লোক যাঁরা, তাঁরা যা বলার বলেছেন। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এটার নেতিবাচক প্রভাব অনেকের ওপর পড়বে।' অভিনেতা আরও বলেন, 'বাম দলের সমর্থক হয়ে আমি প্রতীক উরের প্রচারে গিয়েছি, যেরকম আরও অভিনেতারা যায়। সেই জায়গা থেকে আবেগ তো ছিলই, সেটা একদিনে চলে যায় না, সেরকমই খারাপ লাগাও আছে। আমার মনে হয় এটা একদিনের ঘটনা নয়, ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় একদিনে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ক্ষমতার দিকে যাওয়ার যে প্রবণতা, ক্ষমতার বিপরীতে যাওয়া একরকম, ক্ষমতার পক্ষে যখন কেউ পালাবদল করে যায়, তখন তাঁর মূল্যায়নটা অন্যভাবে হবে, হতে বাধ্য। সে যে ব্যাখাই দিক না কেন বা সে যাদের কাছে গিয়েছে তারা যে ব্যাখাই দিক না কেন, যে কোনও মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে বুঝতে পারবেন, তাদের কাছে ব্যাখাগুলো আর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না।'

Advertisement

ঊষসী চক্রবর্তী (অভিনেত্রী)
প্রয়াত বাম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা ঊষসী সিপিএমের সদস্য না হলেও তিনি মনেপ্রাণে বাম সমর্থক। প্রতীক উরের ঘটনা তাঁকে বিশালভাবে নাড়া দিয়েছে। ঊষসীর মতে, প্রতীক উরকে নিয়ে ঝকঝকে যুবনেতা বলেই মনে করতেন। তিনি দলের অ্যাসেট ছিলেন। কিন্তু সেই প্রতীক উর এমনভাবে দল ছেড়ে বেড়িয়ে যাবেন ভাবতে পারছেন না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও ঊষসী লিখেছেন, 'আমি পার্টির সদস্য নই ! কিন্তু তবুও ঝকঝকে যুবনেতা যাকে এতদিন অ্যাসেট বলে জেনে এসেছি -শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি , ওর মতো , ওদের মতো লড়াকু হতে পারিনি বলে আত্মগ্লানিতে ভুগে নিজের মধ্যবিত্ত জীবনকে ঘেন্না করেছি বরাবর , তাঁকে হঠাত পচে যেতে দেখে ভিতরটা কেমন খালি হয়ে যাচ্ছে। জানি লড়াই টা কঠিন। মধ্যবিত্ত জীবনের ঘেরাটোপে বসে পার্টি কর্মীদের নিরন্তর লড়াই নিয়ে কথা বলার আমি কেউ নই তবুও এক অদৃশ্য বেদনা নিয়ে গত কয়েকদিন বেঁচে আছি। আমি জানি কমরেডরা যারা সত্যি সত্যিই অ্যাসেট তারা এতো সহজে হার মানছেন না। বিনোদ এর মতোই অনুকরণীয় ভঙ্গিতে বলবেন “হাম গরিব হায় গাদ্দার নেহি।” তবুও সব বেদনার তো কারণ হয় না । আজ দেখলাম পৃথা তা লিখেছেন , নিজের পচনকে জাস্টিফাই করার জন্য পার্টির প্রতি অভিমান থাকা সত্ত্বেও যারা নিরন্তর পার্টির সঙ্গে থেকে কাজ করে চলেছেন তাদের কে ঢাল না করাই ভালো। আমারও সেটাই মনে হয়। তবে যাই হোক, একটা  কথা তো ঠিক যে সব কিছুরই ভালো খারাপ আছে। ভালো দিকটা হলো এই যে ত দিন মিডিয়া মারফত জানতাম রাজ্যে দুটি দল । বি জে পি আর টি এম সি। আর তৃতীয় দলটি শূন্য পায়। তাই তারা এখন অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু হটাৎ করে শুনছি শূন্য পাওয়া দলের যুব নেতৃত্বের সবাই বাকি দুটো চূড়ান্ত relevant দল থেকে প্রতিদিন অফার পাচ্ছে। ব্রো, শূন্য পাওয়া দল থেকে এত নেতা ধার নিতে হছে কেন? কুসুম কুসুম তোমার যুবনেতা নেই ?' 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement