
বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। যখন বাংলা ছবির অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছিল, সেই সময় তিনি হাল ধরেছিলেন। অবশেষে তাঁর সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পেলেন। দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পেতে চলেছেন বাংলার সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রসেনজিতের এই সাফল্যে খুশি গোটা টলিপাড়া।
শিশুশিল্পী হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেন প্রসেনজিৎ। প্রথমবার তাঁকে দেখা যায় ছোট্ট জিজ্ঞাসা ছবিতে। এরপর তাঁকে কম সংঘর্ষ করতে হয়নি। বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও প্রসেনজিতকে ঘুরতে হয়েছে পরিচালকদের দরজায় দরজায়। এরপর তাঁকে নায়ক হিসাবে দেখা যায় দুটি পাতা ছবিতে। হিরো হিসাবে তাঁকে বেশ পছন্দ হয় দর্শকদের। এরপর তাঁর সুপার ডুপার হিট ছবি অমর সঙ্গী। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি টলিপাডার বুম্বাদাকে।
বিয়ের ফুল, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ, মনের মানুষ, স্নেহের প্রতিদান, ছোট বউ, আক্রোশ সহ একাধিক বাণিজ্যিক ছবিতে তিনি কাজ করেছেন। এই মুহূর্তেও সাফল্যের স্পটলাইট তাঁর উপরে। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি প্রসেনজিৎ তাঁর কেরিয়ারের কিছু সেরা সিনেমা করেন। যেখানে তাঁর অভিনয় বার বার প্রশংসা পেয়েছে। ১৯ এপ্রিল, উৎসব, অটোগ্রাফ, চোখের বালি, দোসর, জেষ্ঠ্যপুত্র, কাছের মানুষ, বাইশে শ্রাবণ, দৃষ্টিকোণ, গুমনামি বাবা, অযোগ্য, কাকাবাবু, দশম অবতার, খেলা, আয় খুকু আয়, প্রাক্তন, কাছের মানুষ, ময়ূরাক্ষী ছবিতে প্রসেনজিৎ তাঁর অন্যরকম অভিনয় দিয়ে দর্শকদের বার বার মুগ্ধ করেছেন।
প্রসেনজিৎ ইতিমধ্যেই তাঁর কেরিয়ারে ৪০০টির বেশি ছবিতে কাজ করে ফেলেছেন। তবে বুম্বাদার খুব কাছের ছবি দোসর, যেখানে তিনি কঙ্কণা সেনশর্মার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে প্রসেনজিৎ ৯টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। প্রসেনজিতের ঝুলিতে ঢুকেছে একের পর এক সিনেমা, দেশজুড়ে মিলেছে খ্য়াতি। বাংলা সিনেমার বাইরেও ছড়িয়েছে তাঁর পরিধি। নিজের গোটা কেরিয়ারে অভিনয় করেছেন ৪০০-র অধিক সিনেমায়। কখনও থেকেছেন মূলস্রোতে, কখনও বেরিয়েছেন সেই ধারা থেকে।
বাংলার পাশপাশি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন প্রসেনজিৎ। আঁধিয়া, মিত মেরে মন কে, সোনে কি জঞ্জির, বীরতা ছবিতে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। সাংঘাই, ট্রাফিক, মালিক-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। এখনও অনেক পথ চলা বাকি তাঁর, এখনও অনেক চরিত্রে নিজেকে দেখা বাকি প্রসেনজিতের। তাই এই সম্মান এককথায় তাঁর চলার পথের অনুপ্রেরণা।