
টলিপাড়ার পাওয়ার কাপল হিসাবেই পরিচিত ছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। ২০০৮ সালে চিরদিনই তুমি যে আমার সিনেমার মাধ্যমেই বড়পর্দায় পা রেখেছিলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। আর এই ছবি থেকেই তাঁদের প্রেমেরও সূত্রপাত। রিল লাইফের কৃষ্ণ ও পল্লবী রিয়্যাল লাইফেও দারুণ হিট হয়েছিলেন। কিন্তু সেই জুটি ভেঙে গেল হঠাৎই। রবিবার দিঘার তালসারিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কীভাবে প্রেমের শুরু হয়েছিল রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার?
২০০৮ সালে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার জুটি চিরদিনই তুমি যে আমার শ্যুটিংয়ের সময় থেকেই তাঁদের রোম্যান্স শুরু হয়। তখনও ১৮ বছর হয়নি প্রিয়াঙ্কার। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা তখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ভালবাসার কথা প্রথম রাহুলই জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কাকে। সেই কথা শুনে প্রিয়াঙ্কা কিন্তু একবারেই রাজি হয়ে যাননি। তখন অভিনেতাকে মুখের ওপর না করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি রাহুল। কঠিন হতে ফিল্ডিং করেছেন টানা তিন মাস। তারপর প্রিয়াঙ্কা তাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে ভালবাসি।
২০১০ সালেই বিয়ে সেরে নেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল। তার আগে অবশ্য তাঁরা লিভ-ইনে থাকতেন। ভালই চলছিল রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সংসার। ২০১৩ সালে ছেলে সহজ আসে তাঁদের জীবনে। কিন্তু এরপরই রাহুল-প্রিয়াঙ্কার দাম্পত্যে চিড় ধরে। ২০১৭ সালে তাঁরা আলাদা আলাদা থাকতে শুরু করেন তাঁরা। দীর্ঘদিন সিঙ্গল মাদার হিসেবে একাই সহজকে বড় করেন। ২০১৮ সালে আদালতে বিচ্ছেদ মামালাও দায়ের করেন। সেই সময় থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা দুজনেরই অন্য সম্পর্কে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা যেতে শুরু করে। যদিও নিজেরা এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি।
আলাদা থাকলেও রাহুল ছেলে সহজকে শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় দিতে ভুলতেন না। কিন্তু, বিয়ে কি এত সহজে ভাঙে? ২০২২ সাল থেকে একটু একটু করে ফের কাছাকাছি আসছিল রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যায়। সহজকে সঙ্গে নিয়েও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন তারা। এরপরই দুজনে এক হওয়ার খবরে সিলমোহর দেন রাহুল। জানান, ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে ছেলে সহজের জন্য একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। অর্থাৎ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার মাঝে সেতুর কাজ করে তাঁদের ছেলে রাহুল। যদিও এক হওয়ার পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা এক ছাদের তলায় না থাকলেও, তাঁদের মধ্যেকার সব তিক্ততা দূর হয়ে গিয়েছিল। একসঙ্গে সব জায়গাতেই তাঁরা যেতেন। কৃষ্ণ-পল্লবী আবার এক হয়ে যাওয়ায় খুশি হয়েছিলেন তাঁদের একাধিক ভক্ত-অনুগামীরা।
রবিবার সন্ধেতেই খবর আসে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্য়োপাধ্যায় আর নেই। পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশার সীমান্তবর্তী তালসারির সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছেন রাহুল। তবে তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। দিঘা হাসপাতালে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হলে রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তমলুক হাসপাতালে অভিনেতার ময়নাতদন্ত হবে। তারপরই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলের মধ্যেই রাহুলের দেহ কলকাতায় চলে আসবে।